ভালুকায় রাস্তা নির্মানের তিন মাসেই বেহাল অবস্থা

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় এলাকাবাসীর বাঁধা উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধানে পৌনে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এইচবিবি রাস্তাটি নিন্মমানের সামগ্রি দিয়ে করার কারনে বিল উত্তোলনের আগেই বিভিন্ন স্থানে দেবে ও ভেঙে গেছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারাম্যান রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধানে পৌনে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ নম্বর ভালুকা সদর ইউনিয়নের কাঠালী মাঠের ঘাট রাস্তা হতে মুক্তিযোদ্ধা সাহাবদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত ৬৮০ মিটার এইচবিবি করনের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। রাস্তাটির কার্যাদেশ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের মালিক আশিকুর রহমান। কাজ শুরুর প্রথম থেকেই নিন্মমানের ইট ও বালির পরিমান কম দেয়াসহ ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানায়। ঠিকাদার ও শ্রমিকরা তাতে কর্ণপাত না করে কাজ চালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের কাছে অভিযোগ দিলে তিনি ৬ এপ্রিল স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে রাস্তাটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনে রাস্তায় ব্যবহৃত নিম্মমানের ইট, অপর্যাপ্ত বালি ও বিভিন্ন অনিয়ম দেখে তিনি  ক্ষুব্ধ হন। এ সময় তিনি উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সার্ভেয়ার শওকত হোসেন ও কার্য সহকারী দেলুয়ার হোসেনকে ইটের গুনগত মান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা নিন্মমানের বলে জানান। পরে মান সম্পন্ন ইট ও পরিমান মতো বালি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ না হলে বিল দেয়া হবেনা বলে তখন সাবধান করে দেয়া হয়। কিন্তু দুই মাস যেতে না যেতেই রাস্তাটি বিভিন্ন অংশে দেবে ও ভেঙে যায়। স্থানীয় লোকজন চলাচলের জন্য ভাঙা স্থানে ইটের খোয়া দিয়ে মেরামত করে চলাচল করতেছিলো।
সরেজমিন গেলে স্থানীয় লোকজন জানান, নিন্মমানের ইট ও বালির পরিমান কম দেয়ার বিষয়ে তিন চারবার কাজে বাঁধা দেয়া হয়। পরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পরিদর্শনে এসে অভিযোগের সত্যতা পান এবং ঠিকাদারকে সতর্ক করে দেন। কিন্তু ঠিকাদার ওইসবের তোয়াক্কা না করে নিন্মমানের সামগ্রি দিয়েই কাজ শেষ করেন। ফলে তিন মাস যেতে না যেতেই রাস্তাটির বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার আশিকুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তাটির দু’পাশে খাদ থাকায়, কয়েকটি স্থানে একটু সমস্যা হয়েছে এবং বিল উত্তোলনের আগেই তা ঠিক করে দেয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, রাস্তার কাজে অনিয়ম হওয়ায় রাস্তাটি বেশ কয়েক স্থানে দেবে ও ভেঙে গেছে। ২২ আগস্ট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরেজমিন পরিদর্শনে অনিয়মের সত্যতা পান। তাই এ ব্যাপারে ঠিকাদারকে দুইবার চিঠি দেয়া হয়েছে মেরামত করে দেয়ার জন্য। যদি মেরামত করে না দেয়া হয়, তবে বিল প্রদান করা হবেনা।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, কাজের শুরুতেই ঠিকাদার অনিয়ম শুরু করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তখন পরিদর্শন করে শতর্ক করা হয়েছিলো। কিন্তু ঠিকাদার সিডিউল মতো কাজ করেননি। বিলের জন্য আবেদন করা হলে, রাস্তাটি আবারো গত ২২ আগস্ট সরেজমিন পরিদর্শন করে তিনি বিভিন্ন স্থানে ভাঙা ও দেবে যাওয়ার অবস্থা দেখতে পান। রাস্তাটি ঠিকঠাক করে না দেয়া হলে তিনি বিলে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানান।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *