ভালুকা পৌরসভার টিএন্ডটি রোডের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি : জনদূর্ভোগ চরমে

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ণ টিএন্ডটি রোডটি তিন বছর পার হলেও ড্রেন নির্মাণসহ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়নি। এতে দু’টি ওয়ার্ডের কয়েক হাজার বাসিন্দাসহ যানবাহন ও পথচারীরা প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
জানা যায়, পৌরসভার টিএন্ডটি রোড ও পনাশাইল রোডে বিশ^ব্যংকের অর্থায়ণে পুনর্বান প্রকল্পের আওতায় ৫৭০ মিটার রাস্তা ও ৩৮০ মিটার ড্রেনের জন্য ৪ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ১১০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ১০ মার্চ ২০১৯ তারিখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহিবুল হক কার্যাদেশ পেয়ে কাজটি শুরু করেন। কিন্তু পনাশাইল রোডের কাজ শেষ করা হলেও গত তিন বছরে জনগুরুত্বপূর্ণ টিএন্ডটি রোডের কাজ শেষ করতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে সম্প্রতি ড্রেনের কাজ শেষ করা হয়েছে। কিন্তু কার্পেটিং কাজ না করে মাসের পর মাস ফেলে রাখার কারণে চলতি বর্ষায় রাস্তাটি হাটু পর্যন্ত কাঁদাজলে একাকার হয়ে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগের মধ্যদিয়ে মেজরভিটা ও টিএন্ডটি রোডের সহ¯্রাধিক আবাসিক বাসাবাড়ির  লোকজন, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরীজিবিসহ পথচারী ও যানবাহন চলতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে ড্রেনটি দীর্ঘ তিন বছরে শেষ করা হয়েছে। ভেকু দিয়ে গভীর গর্তকরে ফেলে রাখা হয়েছিলো দীর্ঘদিন। এতে যানবাহনতো দুরোর কথা এলাকাবাসি হেটেও চলাচল করতে পারেনি। পরে নিন্মমানের সামগী দিয়ে ড্রেনটির কাজ শুরু করলে বহুবার প্রতিবাদ করা হয়। কিন্তু ঠিকাদার তাদের মর্জিমতোই কাজ করেছেন। বিশ^ব্যাংকের প্রতিনিধি বা পৌরসভার কোন লোক ড্রেন নির্মাণকালে তেমন একটা দেখা যায়নি। এখন বেশ কয়েক মাস ধরে  ড্রেন নির্মাণ করে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে চলতি বর্ষায় রাস্তাটি হাটু পর্যন্ত কাঁদাজলে ডুবে আছে। প্রতিবাদ ও অভিযোগ করার কোন জায়গা নেই। বহুবার পৌরকর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোন কাজে আসছেনা।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহিবুল হকের স্বত্বাধিকারী মহিবুল হক জানান, তিনি অনেক আগেই ড্রেণের কাজটি শেষ করে কর্তৃপক্ষতে বুঝিয়ে দিয়ে বিল উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: শাহাবউদ্দিন খান জানান, তিন বছর আগে টিএন্ডটি রোডে শুধু আরসিসি ড্রেনের টেন্ডার হয়েছিলো এবং ইতোমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে। রাস্তাটির কার্পেটিং কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। বর্তমানে চলতি বর্ষায় রাস্তটি কর্দমাক্ত হওয়ার বিষয়ে মেয়র মহোদয়কে অনেকবার বলা হয়েছে কিন্তু কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেননা।
ভালুকা পৌর মেয়র ডা. একেএম মেজবাহ উদ্দি কাইয়ূম জানান, টিএন্ডটি রোডের ড্রেনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং কার্পেটিং কাজের টেন্ডারের জন্য প্রস্ততি চলছে। তিনি আরো বলেন, চলতি বর্ষায় জনসাধারণের চলাচলে সুবিধার জন্য ইটের খোয়া ব্যবহার ও পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *