ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় পূর্ববিরোধের জেরে এক দোকানে ঢুকে বৃদ্ধ ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীকে মারধর এবং ধারালো দা ও লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহতদের ভালুকা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩৫)। ঘটনাটি উপজেলার ডাকাতিয়া বাজারে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডাকাতিয়া বাজারে আমিনুল ইসলামের বাবা ফয়জুদ্দিন মোল্লা (৬০) দীর্ঘদিন ধরে লেপ-তোষকের ব্যবসা করে আসছেন। অভিযুক্ত মো. শাকিল মিয়া (২৫) ও মো. আসলাম মিয়া (৫০) একই বাজারে পাশাপাশি স্যানিটারি ব্যবসা করেন। ব্যবসাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা ফয়জুদ্দিন মোল্লার দোকানে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে শাকিলের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে ফয়জুদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মাথায় কেটে রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত আসলাম লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় ফয়জুদ্দিনের স্ত্রী আমেনা খাতুন (৫৫) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের ভবিষ্যতে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগকারী আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর বাবা-মাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাঁর বাবাকে ভর্তি এবং মাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসলাম মিয়ার হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, তার ছেলে শাকিল বালিশ বানাতে দিলে ফয়জুদ্দিন নিন্মমানের বালিশ বানিয়ে দেয়। এনিয়ে কথাকাটাকাটি ও তাদের সাথে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ভালুকা মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেযেছি, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।