হোসেনপুরে মসজিদের ১৭ ফ্যান চুরি: মূল হোতা গ্রেফতার।

শেয়ার করুন :

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) থেকে জাহাঙ্গীর আলম।।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদ থেকে বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া ১৭টি সিলিং ফ্যানের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ও চোরাই মাল ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে চোরাইকৃত দুটি সিলিং ফ্যানও উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে হোসেনপুর থানা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের মে মাস থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদ থেকে মোট ১৭টি সিলিং ফ্যান চুরি হয়। ধারাবাহিকভাবে মসজিদ থেকে ফ্যান উধাও হয়ে যাওয়ায় মুসল্লি ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে হোসেনপুর থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান হোসেনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমান। তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেন। ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে উপজেলার পশ্চিম দীপেশ্বর গ্রামের স্বপন মিয়ার ছেলে পারভেজ মোশারফ ওরফে বেলাকে (৩২) মসজিদের ফ্যান চুরির সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে পারভেজ মোশারফকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মসজিদ থেকে সিলিং ফ্যান চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন এবং চোরাইকৃত ফ্যান কোথায় বিক্রি করেছেন সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ উপজেলার নতুন বাজার এলাকার হলুদ মিয়ার ইলেকট্রনিক্সের দোকানে অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে চোরাইকৃত দুটি সিলিং ফ্যান উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হলুদ মিয়া জানান, তিনি পারভেজ মোশারফের কাছ থেকে মোট চারটি সিলিং ফ্যান প্রতিটি ৬০০ টাকা দরে কিনেছিলেন। পরে ওই চারটি ফ্যানের মধ্যে দুটি তিনি প্রতিটি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করে দেন। বাকি দুটি ফ্যান তার দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, মসজিদ থেকে চুরি হওয়া সিলিং ফ্যান উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করেছে। তদন্তে মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চোরাই মাল ক্রয় ও সংরক্ষণের অভিযোগে হলুদ মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফ্যানগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাইকৃত বাকি ফ্যানগুলো উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!