ভালুকায় স্বাস্থ্য পরিদর্শকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ, ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা

শেয়ার করুন :

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহের ভালুকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা দিন দিন ভেঙে পড়ছে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ সংকট ও তদারকির অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে শিল্পাঞ্চল পৌরএলাকা ও উপজেলার হবিরবাড়ি, মাস্টারবাড়িসহ বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় পঁচা ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বা স্বাস্থ্য পরিদর্শক শামছুল ইসলাম রমিজের নিষ্ক্রিয়তা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন তদারকি কার্যক্রম প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হলেও নিয়মিত অভিযান বা মনিটরিং দেখা যায় না। কোন নির্দিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করা হলে স্বাস্থ্য পরিদর্শক শামছুল ইসলাম রমিজ ওই ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করে রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি ভালুকা বাজারে একটি শরিষা উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভেজাল তেল বিক্রির বিষয়ে প্রমাণসহ স্বাস্থ্য পরিদর্শককে জানালে, তিনি ওই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে গেলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য পরিদর্শক শামছুল ইসলাম বিভিন্ন হোটেল রেস্তুরা, মিষ্টির দোকান, দুধ ব্যবসায়ী, আইস্ক্রীম কারখানাসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সখ্যতা রয়েছে এবং প্রতি মাসে বিশেষ সুবিধা নিয়ে থাকেন। অভিযোগে জানা যায়, স্বাস্থ্য পরিদর্শক শামছুল ইসলাম রমিজ ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি মৌজার ১১০ নম্বর দাগে বনভূমি দখলে নিয় বিশার বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর অপরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক এবং খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পঁচা ও বাসি খাবার পুনরায় গরম করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে ডায়রিয়া, পেটের রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত তদারকি বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য পরিদর্শক শামছুল ইসলাম রমিজ তার বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিয়মিতই বাজার মনিটরিং করছেন।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!