ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ঝড়ে পড়ে যাওয়া আকাশমণি গাছ অফিসে কেটে নিয়ে উল্টো বাগানের পাশের নিরিহ তিন ব্যক্তির নামে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভালুকা রেঞ্জের কাদিগড় বিট অফিসার জালিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ ।
হয়রানির শিকার তিন ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তামাট গ্রামে পালগাঁও মৌজার ৯১০ নম্বর দাগে বনবিভাগের রোপনকৃত ১৪/১৫ বছর বয়সী তিনটি আকাশমনি গাছ তিন বছর আগে ঝড়ে পড়ে যায়। ওই গাছগুলো কেটে নেয়ার জন্য বাগানের পাশের বসতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আশরাফুজ্জামান আশু স্থানীয় বনকর্মকর্তা জলিলুর রহমানকে বলেন। পরে লোক নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে গাছগুলো কেটে নিয়ে বন অফিসে রাখেন ওই কর্মকর্তা। কিছুদিন পর মামলার সমন আশে এবং জানা যায়, মামলায় আশরাফুজ্জামান আশু, ও কাঠুরিয়া রাজ্জাক মিয়া ও আজগর আলী আসামী।
আশরাফুজ্জামান আশু অভিযোগ করে বলেন, তিনি ঝড়ে পড়া গাছ তিনটি কেটে নেয়ার জন্য বিট কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। গাছ কাটার জন্য লোকও সংগ্রহ করে দিয়েছেন এবং মজুরী দিয়ে গাছগুলো বিট অফিসে নিয়ে গেছেন। এখন তিনিসহ ওই দুই ব্যক্তির নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বিট অফিসের অদূরে ৫১১ নম্বর দাগে বনবিজ্ঞপ্তিত চালা আব্দুর রাজ্জাক খানের দাবিকৃত ভিটা থেকে ১৩/১৪ বছর বয়সি প্রায় শতাধিক আকাশমণি গাছ বিট অফিসের অসাধূ ব্যক্তিদের যোগসাজশে কেটে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া ৩ নম্বর দাগে বনবিজ্ঞিপ্ততিত স্থানীয় ইব্রাহিম মোল্লা গংদের চালা থেকে একই বয়সি কয়েক’শ আকাশমণি গাছ কেটে নিয়েছে সঙ্ঘবদ্ধ গাছ চোরেরদল। এমনকি বিভিন্ন স্থানে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বিট অফিসারকে বিভিন্ন অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে। তিনি আরো জানান, বন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অফিসের মাত্র ৫০ গজ দূরে বনবিজ্ঞপ্তিভুক্ত ৫১১ দাগের জমিতে মোহাম্মদ আজিজ নামে এক ব্যক্তিকে মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘর নির্মাণের অলিখিত অনুমতি দিয়েছেন ও কর্মকর্তা।
মামলার অপর দুই আসামী রাজ্জাক ও আজগর আলীর দাবি, তারা কামলা মানুষ, বিট অফিসার আমাদের মজুরী দিয়েছেন, আমরা গাছ কেটে বিটে পৌছে দিয়েছি। এখন আমরা মামলার আসামী।
ভালুকা রেঞ্জের কাদিগড় বিট অফিসার জলিলুর রহমান জানান, ওই আকাশমণি বাগানটি বনবিভাগের করা। তারা অভিযোগ পেয়েছেন, ঝড়ে পড়া তিনটি গাছের কিছু অংশ অভিযুক্তরা কেটে নিয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।