ভালুকায় ওষধ খাইয়ে ছেলে বউকে গর্ভপাতের পর মৃত্যু : আটক ২

শেয়ার করুন :

ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা।।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ছেলের বৌ সুমি আক্তারকে (২৩) ওষধ খাইয়ে গর্ভপাতের পর নিহতের ঘটনায় মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহতের বড় ভাই হারেজ মিয়া বাদী হয়ে অভিযোগটি করেন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতে উপজেলার পানিহাদি গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সিয়াম ও শ^াশুড়ি খোদেজা খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ ।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর পূর্বে উপজেলার পানিহাদী গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে সিয়াম মিয়ার সাথে ভরাডোবা গ্রামের নারাঙ্গীপাড়া এলাকার দুলাল মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই সুমির শ^াশুড়ি খোদেজা খাতুন তাকে নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করেন। এরই মাঝে সুমি অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তার শ^াশুড়ি সুমিকে তার পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য টাকা দেন। কিন্ত সুমি তার পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হয়নি। এতে তার শ^াশুড়ির অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। পরে সুমির সিজারিয়ান অপারশন করে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ তার শ^শুর বাড়ির লোকজন দেয়নি। শিশু ছেলেকে নিয়ে সুমি তার বাপের বড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হয়। গত ঈদুল ফিতরের পর স্থানীয় ভাবে সালিশ দরবার করে তিনশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অপোসনামা লিখে সিয়াম তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সম্প্রতি সুমি আবারো অন্তসত্ত্বা হলে বিষয়টি তার শ^াশুড়ি জানতে পেরে আবারো সুমির পেটের বাচ্চা নষ্ট করা জন্য পাঁয়তারা শুরু করেন। মুখের মেছতার দাগ ওঠার কথা বলে গত শনিবার দুপুরে সুমির শ^াশুড়ি কৌশলে বাচ্চা গর্ভপাতের কবিরাজি ওষধ খাওয়ায়। বিকেল থেকে সুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে ফোনে সুমির বড় ভাই হারেজকে জানানো হয় সুমির ঠান্ডা জ¦র তাকে হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে হারেজ ভালুকা সরকারি হাসপাতালে এসে দেখেন সুমি হাসাতালের ইউসিসি ভবনে ভর্তি সেলাইন চলছে। এ সময় হারেজ তার বোনকে প্রশ্ন করেন তোর ঠান্ড জ¦র, তাহলে সেলাই দিচ্ছিস কেন? এ সময় সুমি তার ভাইকে বলেন, শ^াশুড়ি তার মুখের মেছতার দাগ ওঠার ওষধের কথা বলে বাচ্চা নষ্ট করার ওষধ খাইয়েছেন। তার এখন প্রচন্ড পেট ব্যাথা।
সুমিকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা নিরিক্ষা করে হাসপাতালের দুই নার্স তিন হাজার ২০০ টাকা চুক্তি করে ডিএনসি করেন। ডিএনসি করার পর সুমির অবস্থা খরাপের দিকে যাওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্ত সুমির স্বামী, শ^াশুড়ি ও নানাশের জামাই শাহীন তাকে হাসপতালে না নিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রোববার রাত আনুমানিক ৩টার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সুমি মারা যায়।
সুমির স্বামী বলেন, সুমি তিন মাসে অন্তসত্ত্বা ছিল। গত শনিবার সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভালুকা সরকারী হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতালের দুই নার্স শ্রীমতি শেফালী রানী ও শিরিনা আক্তার তার সাথে ৩ হাজার ২০০ টাকা চুক্তি করে সুমির ডিএনসি করায়। টাকার জন্য আমি সুমিকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারিনি।
সুমি বড় ভাই হারেজ মিয়া বলেন, আমার বোনকে তার শ^াশুড়ি কৌশলে গর্ভপাতের ওষধ খাইয়ে হত্যা করেছেন। রোববার রাতে সুমির সুস্থতার খবর পেয়ে তার স্বামী সিয়ামদের বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার বোনের নিথর দেহ খাটের উপর পড়ে রয়েছে। সারা বিছানা রক্তে ভেসে গেছে।
ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার নজরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ওই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরী  ও প্রসূতি বিভাগের কোন নার্স যদি টাকার বিনিমিয়ে রোগীনির ফোল অপসারণ করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভালুকা মডেল থানার এসআই মো: রফিকুল ইসলাম জানান, ভিকটিমের বড় ভাই বাদি হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী ও শ^াশুড়িকে আটক করা হয়েছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!