প্রকাশিত হয়েছেঃ আগস্ট ৩০, ২০২৫ সময়ঃ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

Spread the love

জালালুর রহমান, মৌলভীবাজার।।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহিদ এর একতরফা দখলে থাকা ওই আসনে এবার নতুন সমীকরণের মধ্যে হিসাব করতে হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সক্রিয় হয়ে আওয়ামী লীগের বহু বছরের নীরিহ চা বাগান শ্রমিকদের সুরক্ষিত আশ্রয় ভাঙতে মাঠে নেমেছে।

জানা গেছে, চা-শ্রমিক উপনিবিষ্ট শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে গত তিন দশকে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে টানা বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুস শহিদ। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গ্রেফতার করা হয় আব্দুস শহিদকে এরপর থেকে এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের ভাটা নামে। ফলে, বিরোধী শিবির এখন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শক্ত অবস্থান গড়ার চেষ্টা চলমান।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ঐতিহ্য অনুসারে সক্রিয় যেমন তেমনি চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সেনাপতি উপজেলা ছাত্রদলের দীর্ঘ বছর সভাপতির দায়িত্বে ও পর পর চার বার মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি থেকে প্রবাসে ও বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি হলেন শ্রীমঙ্গল সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জালাল আহমেদ জিপু, তিনি বিগত দিনে ও বিএনপির হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নমিনেশন নেন, তবে দল নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালে তিনি দলের সাথে সমীচীনতা প্রকাশ করেন। তিনি আওয়ামী শাসন আমলে দীর্ঘ দিন জেল এ ছিলেন, তিনি বিগত আট মাস দেশে থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন। গত এক মাস হয় দেশ ত্যাগ করে ওমরা হজ্ব পালন শেষে যুক্তরাজ্য হয়ে তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আবার ও দেশে এসে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান।

এ আসনে রয়েছেন বিএনপির ৩ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। বিএনপির হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক দলীয় প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো: মহসিন মিয়া মধু এবং সাবেক শ্রীমঙ্গল ছাত্রদল সভাপতি জালাল উদ্দিন জিপু তাদের দাবি। অতীতে নানা ত্যাগ স্বীকারের পর এবার দল তাদের অবদান মূল্যায়ন করবে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা পেয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো: আব্দুর রব।

এই আসনে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশ। তরুণ এই নেতা শুধু নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতীকই নন, অতীতে তিনি ছিলেন ব্যাপক নির্যাতনের শিকার।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, নবম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে আমাকে হারানো হয়। আমার বিরুদ্ধে একাধিক  মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে বিশেষ আইনে গ্রেফতার করে আমাকে ১৪ মাস জেলে রাখা হয়। এই সময় আমার ছোট ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান শামিম আহমেদ চৌধুরী মারা গেলেও জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। সবকিছুর পরও আমি দলের আদর্শ থেকে সরে যাইনি। এবারও দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মো: মহসিন মিয়া মধু বলেন, ২০০১ সালে আমি ধানের শীষের প্রার্থী ছিলাম। রাজনীতির ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। বারবার জেল খেটেছি, তবুও জনসেবার কাজ চালিয়ে গেছি। মেয়র থাকা অবস্থায় গরিব ও অসহায়দের সহযোগিতা করেছি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রব বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। বৈষম্যহীন সমাজ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। জামায়াত অতীতে যেমন মানুষের পাশে ছিল, এবারও আমরা জনগণের সেবায় কাজ করব। বিশ্বাস করি, মানুষ এবার আমাদের ওপর আস্থা রাখবে।’

প্রীতম দাশ বলেন, আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়ছি। নির্যাতন, মামলা ও কারাবাস আমার মনোবল ভাঙতে পারেনি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পেলে মাঠে নেমে জনগণের সঙ্গে থেকেই নির্বাচন করব।

বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে হাজির জালাল উদ্দিন জিপু জানান, দীর্ঘদিনের তৃনমুল থেকে শুরু করে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং দীর্ঘদিন হামলা মামলায় জর্জরিত হয়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়ে ও রাজনীতি থেকে একচুল পরিমাণ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। দেশে এসে ও বিগত সরকারের আমলে জেলে দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়। দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ। আওয়ামী লীগের বহু বছরের সুরক্ষিত আশ্রয় স্থান  মৌলভীবাজার-৪ আসন এবার বিরোধীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশক ও সম্পাদক

আসাদুজ্জামান (ফজলু)

হাউজ নং: ২০, ফ্ল্যাট নং: বি২, রোড নং: ০৭

সেকশন: ১২, উত্তরা, ঢাকা – ১২৩০

মোবাইল: ০১৭১৮-১৯২৬৮৫, ০১৭৬১-৫৮২৩৩৮

ইমেইল: contact@digontabarta.com