গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক,১ জানুয়ারীঃ
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুরে চলাচলের একটি রাস্তা বন্ধ করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের পুরনো রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে কয়েকটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় উত্তর খাইলকুরে জমির উদ্দিন খাঁন সড়কের উত্তর পাশে আল আকসা মসজিদ রোড সংলগ্ন চলাচলের ৬ ফিট প্রশস্ত রাস্তাটির ওপর রাতারাতি প্রায় ৬ ফুট উঁচু ওয়াল নির্মাণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে আলোচিত রাস্তার উত্তর পাশের বাড়ির মালিক মফিজুল ইসলাম বাদল নিজ বাড়ির বিপরীত পাশে রাস্তাটির দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে আড়াই শতক জমি ক্রয় করেন। এর পর থেকে তিনি বাড়িটির সাথে ক্রয়কৃত ওই জমির সংযোগ স্থাপন করতে রাস্তাটি বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে প্রতিবেশীদের বাধা উপেক্ষা করে রাস্তাটি বন্ধ করার জোর চেষ্টা চালান।
পাশের বাড়ির মালিক রেহেনা আক্তার জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় গাছা থানার এসআই সজীব দেবনাথ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে অশুভন আচরণ করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, আগামীকাল বাদল সাব রাস্তায় বাউন্ডারি নির্মাণ করবেন, কেউ বাধা দিতে গেলে হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যাব। দারোগার এ হুমকির পর তার পরিবারের সকল সদস্য ও ভুক্তভোগী অন্যান্য প্রতিবেশী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। পর দিন শুক্রবার সকাল থেকেই দারোগা সজীব দেবনাথের উপস্থিতিতে পাশের বাড়ির মালিক বাদল দলবল নিয়ে রাস্তা দখল করে রাতারাতি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। এতে একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে ৫টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অথচ অবরুদ্ধ জায়গার মালিকদের জমির দলিলের তফসিলেও রাস্তার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সদ্য নির্মিত ওয়ালের বাহিরে রাস্তার অবশিষ্ট অংশে অভিযুক্ত বাড়ির মালিক বাদলের গভীর নলকূপ রয়েছে। অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা পাশের একটি জমির ওয়াল টপকে বহু কষ্টে চলাচল করছেন।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মফিজুল ইসলাম বাদল জানান, তিনি ২০০৫ সালে জায়গা কিনে বাড়িটি নির্মাণ করেন এবং ২০১৮ সালে বাড়ির বিপরীত পাশে আরো আড়াই শতক জমি কিনেন। বর্তমানে রাস্তার উভয় পাশের জমি তার মালিকানাধীন হওয়ায় রাস্তাটির সংশ্লিষ্ট অংশও নিজের বলে দাবি করছেন। ওই রাস্তা ব্যবহারকারী প্রতিবেশীদেরকে সমপরিমাণ জায়গা তাকে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। এতে তারা রাজি না হওয়ায় অবশেষে তিনি রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
পুলিশের সহযোগিতায় রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করে গাছা থানার এসআই সজীব দেবনাথ বলেন, আলোচিত বাড়ির মালিক বাদলের জিডি তদন্ত করতে আমি ওই রাতে সেখানে গিয়েছিলাম এবং পর দিন শুক্রবার লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিবেশীরা জড়ো হচ্ছেন মর্মে খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হই। ওই বাড়ির মালিক মফিজুল ইসলাম বাদল এবিষয়ে আদালতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করেছেন জানিয়ে এসআই সজীব বলেন, ওই জায়গা বাদলের দখলে রয়েছে এসি ল্যান্ড অফিসের এমন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এবং সেখানে শান্তি শৃংখলা ভঙ্গের আশঙ্কায় সিআরপিসি ১৪৫ ধারায় বিবাদীপক্ষের ওপর প্রসেডিং ড্র করেছেন। গত শুক্রবার তিনি ১৪৫ ধারা কার্যকর করতে ঘটনাস্থলে যান বলেও দাবি করেন।
এব্যাপারে গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষদেরকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। জমিজমা ও রাস্তার বিষয়ে আদালত বা সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নিবে। এব্যাপারে সেখানে আমাদের কোন ধরণের হস্তক্ষেপ নেই।
#