ভালুকায় অপহৃত নারী গার্মেন্টকর্মীকে মুক্তিপণ দিয়ে উদ্ধার : থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন :

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় মুক্তিপণ দিয়ে কারখানার নারী শ্রমিক (২০) উদ্ধার হলেও রহস্যজনক কারণে থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার আখালিয়া গ্রামে। বর্তমানে ভিকটিম অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন।
ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার আখালিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদের ভাড়াটিয়া একটি গার্মেন্ট কারখানার নারী শ্রমিককে ২৯ এপ্রিল রাতে বাসা থেকে ফুসলিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বাড়ি মালিকের ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৪৫)। পরে ওই গার্মেন্ট শ্রমিকের মোবাইল নম্বর থেকে অপহৃতার বাবার কাছে ইয়াছিন মিয়া দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলা হয়, সময় মতো টাকা না দিলে মেয়ের ক্ষতি করা হবে। নিরুপায় হয়ে মেয়ের জীবন বাঁচাতে বাবা ৭০ হাজার ও ১৫ হাজার মোট ৮৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু আরো ১ লাখ টাকা দাবি করায় সরকারী জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেয়া হয়। এমনকি মেয়ের বড় ভাই খোকন মিয়া বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেন নি। পরে অপহরণকারী নিজেই মেয়েকে নিয়ে আসে এবং বাড়িতে রেখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে অপহরণকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকীতে এবং পুলিশের সহযোগীতা না পেয়ে অসহায় এবং আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরেন অপহৃতাসহ তার পরিবারের সদস্যরা। তাছাড়া অপহরণে নিয়ে নির্যাতনের কারণে এমনকি গত ৫ দিনেও পুলিশি সহযোগিতা না পেয়ে ও অপহরণকারীর অব্যাহত হুমকীর কারণে অপহৃত ওউ নারী মানসিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

অপহৃতার ভাই খোকন মিয়া জানান, ভালুকা মডেল থানার এসআই আমিনুল তার কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা নেন খরচের কথা বলে এবং মামলা রেকর্ড করলে আরো ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু দেনা করে মুক্তিপণ ও পুলিশকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে, এখন আরো ২৫ হাজার টাকা কি করে জোগার করবেন। দুদিন ধরে থানার দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্দ আচরন করছেন।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামছুল হুদা খান জানান, লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!