প্রকাশিত হয়েছেঃ জুলাই ২১, ২০২৩ সময়ঃ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা ডটকম।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্মাণাধীন ন্যাশনাল পলিমার লিমিটেড কারখানায় গ্যাস সংযোগ রুম (আরএমএস) ভাঙচুর ও ফাঁকা গুলির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের দাবি, তারা তাদের দখলীয় জমিতে টিনের বেড়া দিতে গেলে তাদের নিকট ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় অপর পক্ষ ফাঁকা গুলি করে আতংকের সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া গ্রামে ওই ঘটনাটি ঘটে। ওই ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
থানায় দেয়া অভিযোগ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামিরদিয়া গ্রামে অবস্থিত ন্যাশনাল পরিমার লিমিটেডের সাথে স্থানীয় আবদুর রহিমের কতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধওে বিরোধ চলে আসছিলো। বৃহস্পতিবার ঘটনার দিন সকালে আবদুর রহিমের ছেলে সোহাগের (৩৫) নেতৃত্বে ৭০-৮০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নির্মাণাধীন ন্যাশনাল পলিমার লিমিটেড কারখানায় প্রবেশ করে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দেয়ায় তারা কারখানার আরএমএস বিল্ডিং ও ক্যনটিন ঘর ভাংচুর চালিয়ে ক্ষতি সাধন করে। ওই সময় কারখানার শ্রমিকগণ ও স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতংক সৃষ্টি করে এবং খুন জখমের ভয় দেখিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় কারখানার সিনিয়র এ্যাডমিন শাহরিয়ার পারভেজ বাদি হয়ে সোহাগ, নিপুন, আলমগীর হোসেন, ডালিম, মোর্শেদ, বাবু, দ্বীপ সরকার, দেলোয়ার হোসেন, নাঈম, উত্তম ও আমিনুলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৭০-৮০ জনকে আসামী করে ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অপর পক্ষের দাবি, হবিরবাড়ি মৌজার এক একর ২৫ শতাংশ জমি নিয়ে নির্মাণাধীন ন্যাশনাল পলিমার লিমিটেড কারখানায় কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন সকালে তারা তাদের দখলীয় জমিতে টিনের বেড়া দিতে গেলে কারখানার লোকজন বাঁধা দেয় এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রতিপক্ষরা তাদের ২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও ১০-১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে আতংক সৃষ্টি করে। একই সময় তারা প্রতিপক্ষের বাড়ির গেইট বাউন্ডারী ভাংচুর করে। ওই ঘটনায় মো. আবদুল্যাহ বিন মনির বাদি হয়ে মো: সালাউদ্দিন সরকার, শারফুল মিয়া, বাবু সরকার, সোহেল আকন্দ, সাহেব আলী, আবদুর রহমান ও আতাউর রহমানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জনকে আসামী করে ভালুকা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় আবদুল কাদির নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি একাধিক গুলির শব্দ শোনেছেন। তবে, কারা গুলি করেছে তা তিনি বলতে পারবেন না। কারণ ওদের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক ছিলো।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কারখানার লোকেরা ৩টি গুলির খোসা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। দুই পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

