প্রকাশিত হয়েছেঃ জুলাই ১২, ২০২৩ সময়ঃ ৯:২১ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় বনবিভাগের প্রায় কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক বছর আগে নির্মানাধিন সিমানাপ্রাচীর ভেঙে দিয়ে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হলেও স্থানীয় বনভিাগের অসাধূ ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে স্থানীয় আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তির নেতৃতে¦ ঈদের পূর্ব থেকে আবারো পুরোদমে ওই স্থানে প্রাচীরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার সিডষ্টোর-ঝালপাজা সড়কে চেচুয়া মোড় নামক এলাকায় দীর্ঘদিন আগে কিছু জমি ক্রয় করে সিপি বাংলাদেশ নামে একটি কোম্পানী তাতে মুরগীর হ্যাচারীর ব্যবসা শুরু করেন। এক বছর আগে হ্যাচারীর পাশেই হবিরবাড়ি মৌজার ৩৫৪ নম্বর দাগে বনবিভাগের কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করলে, খবর পেয়ে স্থানীয় বনবিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাচীরটি গুঁড়িয়ে দেয় এবং কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেন। কিন্তু কিছুদিন নিরব থাকার পর গত ঈদের আগে স্থানীয় মৃত: হেকিম খানের ছেলে আবুল কাশেমের নেতৃত্বে কোটি টাকা মূল্যের প্রায় সাড়ে চার বিঘা বনভূমি দখলে নিয়ে ওই স্থানে পূণরায় সীমাণাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।
স্থাণীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সিপি কোম্পানী ৩৫৪ নম্বর দাগে বনবিভাগের দুই একরের বেশি জমি দখল করে রেখেছেন। এর আগেও প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে বনবিভাগ কিছুটা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছিলো। কিন্তু গত ঈদের আগে ভালুকা রেঞ্জের কতিপয় অসাধূ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে যোগসাজশ করেই স্থাণীয় আবুল কাশেমের নেতৃত্বে সীমাণাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। তানাহলে এতো দীর্ঘ সিমাণাপ্রাচীর নির্মাণ করা সম্ভব না। যেখানে একটি ইট বসালেও বনবিভাগের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদেরকে সন্তোষ্ট করে কাজ করতে হয়, সেখানে সিপি কোম্পানী এতো দীর্ঘ প্রাচীর কিভাবে নির্মাণ করে।
সিপি কোম্পানীর মালিক মেহেদী হাসান ও অভিযুক্ত আবুল কাশেমের মোবাইল নম্বরে এ বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায়, তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে হবিরবাড়ি বিট অফিসার আশরাফ উদ্দিন খানের সাথে মোবাইলে জানতে চাইলে সিপি কোম্পানী কর্তৃক সীমানাপ্রাচীর নির্মানের কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি নিয়ে রেঞ্জ অফিসারের সাথে কথা বলেন। 
ভালুকা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: হারুন অর রশিদ জানান, হবিরবাড়ি মৌজার ৩৫৪ নম্বর দাগে মোট জমি রয়েছে, ৬৩ একর ৪০ শতাংশ। তার মাঝে বনবিভাগের রয়েছে, ৫৩ একর। সিপি কোম্পানীর বিরুদ্ধে বনবিভাগের জমি দখলে নিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগে এক বছর আগেও মামলা দেয়া হয়েছিলো। আবারো ওই স্থানে নির্মানাধিন সিমানাপ্রাচীর ভেঙে দিয়ে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

