ভালুকায় পঞ্চম শ্রেণীর প্রশংসাপত্র বিতরণের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ।

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রশংসাপত্র বিতরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়ের ৬১ নম্বর আঙ্গারগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তোফায়েল আহম্মেদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নান্নু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম শ্রেনীর চুড়ান্ত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের ৬১ নম্বর আঙ্গারগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি জন্যে বিদ্যালয় থেকে প্রশংসাপত্র আনতে যায়। ওই সময় বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তোফায়েল আহম্মেদ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে ৫০০ থেকে ৭০০টাকা আদায় করেন।
ওই বিষয়ে কথা হলে উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের আবু হানিফ জানান, তার মেয়ে হাবিবা আক্তার গত বছর উপজেলার আঙ্গারগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করেছে। পরে, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্যে ওই বিদ্যালয় থেকে প্রশংসাপত্র আনতে গেলে প্রধানশিক্ষক তার কাছে প্রশংসাপত্রের জন্যে ৫০০ এবং পিকনিকের জন্যে ২০০ টাকা দাবি করেন। পরে, তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধানশিক্ষকের হাতে ৭০০ টাকা দিয়ে মেয়ের প্রশংসাপত্র আনেন। তবে, কয়েকদিন আগে প্রধানশিক্ষক তার মেয়ের কাছে ৫০০ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
অজ্ঞাত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আঙ্গারগাড়া বাজারের একজন চা বিক্রেতা জানান, ছেলের প্রশংসাপত্রের জন্যে শিক্ষক তোফায়েল আহাম্মেদ তার কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন। পরে, তিনি ৫০০ টাকা দিয়ে ছেলের মাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে প্রশংসাপত্র আনিয়েছেন। ওই বিদ্যালয়ের একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী জানান, প্রধানশিক্ষক তাদের নিকট থেকেও টাকা আদায় করেছেন।
কথা হলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকার যেখানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি মওকুফ করেছেন। আর তোফায়েল স্যার প্রশংসাপত্রের জন্যে ছেলে-মেয়েদের নিকট থেকে টাকা আদায় করছেন।
অভিযোগকারী রফিকুল ইসলাম নান্নু জানান, এলাকার মানুষের স্বার্থে তিনি ওই অভিযোগটি করেছেন এবং অভিযোগের শতভাগ সত্যতা রয়েছে। তাছাড়া, উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে প্রধানশিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নেয়া টাকা ফিরিয়ে দেন। এছাড়াও, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক  তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, ‘বনভোজনের জন্য আমি ৪৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলাম। পরে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) স্যার টাকা ফেরৎ দেয়ার নির্দেশ দিলে আমি সেই টাকা শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরৎ দিয়ে দিয়েছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ জানান, সরকার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছে, উপবৃত্তি, পোশাক, জুতা, স্কুল ব্যাগ কেনার টাকা দিচ্ছে। গত পরীক্ষার ফিও মওকুফ ছিল। প্রশংসাপত্র দেওয়া জন্যে এরকম টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নেই। উপজেলার ৬১নং আঙ্গারগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তোফায়েল আহম্মেদের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *