আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় চারটি ফাজিল মাদরাসাতেই সভাপতির পদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে কমিটি না হওয়ায় বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছে চারটি ফাজিল মাদরাসায় অন্তত ২০ টি এমপিওভূক্ত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র প্রেরণ করতে পারছেন না স্বস্ব মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এতে ওইসব প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটা ছাড়াও শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রামপুর ফাজিল মাদরাসায় ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকে গভর্নিংবডি নেই। প্রতিষ্ঠান প্রধান মাওলানা মো: আব্দুল জব্বার জানান, চলতি মাসের ৩১ তারিখ এনটিআরসিএতে চাহিদাপত্র পাঠানোর শেষ সময় থাকলেও গভর্নিংবডি না থাকায় তার প্রতিষ্ঠানে ৬ টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য চাহিদাপত্র প্রেরণ করতে পারছেন না। কবে নাগাদ কমিটি পাবেন তারও কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছেনা বলে তিনি জানান। গভর্নিংবডিতে সভাপতির পদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলার ভালুকা ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান মাওলানা দেলোয়ার হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষসহ শূন্যপদ রয়েছে ৩ টি, কিন্তু গভর্নিংবডি না থাকায় এমপিওভূক্ত শূন্যপদে শিক্ষকের চাহিদাপত্র এনটিআরসিএতে প্রেরণ করতে পারছেন না। কারণ চাহিদাপত্র পাঠাতে গভর্নিংবডির রেজুলেশন প্রয়োজন হয়।
উপজেলার কাচিনা কেইউ ফাজিল মাদরাসার অবস্থাও একই। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মো: আজিজুল হক জানান, তার প্রতিষ্ঠানে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চে। কমিটি না থাকায় ৮ টি শূন্যপদে শিক্ষকের চাহিদাপত্র প্রেরণ করতে পারছেন না। ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে।
উপজেলার তালাব হোসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসায়ও কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে জটিলতার কারণে ৫ টি শূন্যপদে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। অধ্যক্ষ মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসাইন জানান, কমিটি জটিলতার কারণে তার প্রতিষ্ঠানে সহকারী মৌলভী, আইসিটি প্রভাষক, সহকারী বাংলা, সহকারী ইংরেজী ও জনিয়র মৌলভীর শূণ্যপদে শিক্ষক নিয়োগে চাহিদাপত্র দিতে পারছেন না। এতে দাপ্তরিক কাজসহ শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদানে প্রতিনিয়তই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় লোকজন ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক জমি দাতা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিংবডি না হওয়ার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। তার মাঝে প্রধান কারণ হলো শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ বা বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজে অনৈতিক সুবিধা থাকায় কমিটির সভাপতি বা সদস্য হতে ক্ষমতাসিনদলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বা স্থানীয় কোন প্রভাবশালী উঠেপড়ে লাগেন, তাই কমিটি গঠনে জটিলতার সৃষ্টি হয়ে কমিটিবিহিীন অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিতে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারায় উন্নয়নমূলক কাজসহ শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার চারটি ফাজিল মাদরাসার কোনটিতে কতোজন শিক্ষক সংকট রয়েছে, তা তাকে জানানো হয়নি। এমনকি কোন প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং বা গভর্নিংবডি আছে কিনা তাও তার জানা নেই।