জাহাঙ্গীর আলম,হোসেনপুর(কিশোরগঞ্জ)।।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসনের চারটি জনগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সুচারুভাবে একাই সামাল দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। তিনি
নিয়মিত উপজেলা নিবার্হী অফিসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও হোসেনপুর পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট বিদায়ী ইউএনও কাজী নাহিদ ইভার পরবর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন রেকসোনা খাতুন । এর আগে বদলী হওয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদের ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্বও ইউএনওর ওপর ন্যস্ত হয়। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও হোসেনপুর পৌরসভার মেয়রের পদ শূন্য হলে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বও তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়।
সবমিলিয়ে একসঙ্গে চারটি দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো প্রশাসনিকভাবে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ছাড়াও ভূমি অফিসের নথি নিষ্পত্তি, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজ, পৌরসভার নাগরিক সেবা প্রদান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে সার্বক্ষণিক অংশ নিতে হচ্ছে তাঁকে।প্রতিদিন নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ শেষ করেও গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে ফাইলে সই করতে হয়।
অতিরিক্ত কাজের চাপ প্রসঙ্গে ইউএনও রেকসোনা খাতুন জানান, নিয়মিত কাজ শেষেও সাধারণ জনগনের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অফিসে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এর সঙ্গে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন বৈঠক, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সরকারি কর্মসূচি তো রয়েছেই। চার দপ্তরের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত কঠিন হলেও জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমি বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও জানান, নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন হলে কাজের এ চাপ অনেকটাই লাঘব হতো। প্রশাসনিক এই জটিলতার মাঝেও সেবা প্রত্যাশীদের জন্য কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি।
সেবা গ্রহণকারী উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ইউএনও অফিসে এসে দ্রুত পরামর্শ ও সেবা পেয়েছি। তবে শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা নেওয়া আরও সহজ হবে। স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক ও পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ মানছুরুল হক রবিন জানান,কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির অভাবে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতার উদাহরণ হিসেবে না দেখে বরং প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বাস্তব সংকট হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
হোসেনপুর উপজেলা বিএনপরি যুগ্ন আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান জানান , সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদসহ অন্যান্য শূন্য পদগুলোতে দ্রুত পদায়ন নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক সেবা প্রদানের গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে । তাই আশা করবো এমপি মহোদয় উচ্চ মহলে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসিল্যান্ড আনার ব্যবস্থা করবেন।