জাহাঙ্গীর আলম,হোসেনপুর(কিশোরগঞ্জ)।।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের চরপুমদী গ্রামের কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার চরপুমদী হাজী জাল উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার শেষে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গত ১৫ জুলাই বিকাল ৪.৩০ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
বৃহস্পতিবার সকালে মরহুমের মরদেহ চরপুমদী হাজী জালাল উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনা হলে সেখানে
ইউএনও ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এসময় জাতীয় পতাকা দিয়ে মরদেহ আবৃত করা হয় এবং শেষবারের মতো অস্ত্রের স্যালুট জানানো হয়। মরহুমের জানাজায় এলাকার হাজারো মানুষ অংশ নেন। আরো উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাহিদ ইভা,হোসেনপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম,হোসেনপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুমদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য,
মোঃ সিরাজুল ইসলাম ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি এলাকায় “বীর মুক্তিযোদ্ধা” হিসেবে সম্মানিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সততা ও নিষ্ঠার সাথে অবসরে যান। কর্মজীবনে তিনি সাধারণ মানুষের ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ছিলেন। তার সততা ও মানবিকতার জন্য এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,মোঃ সিরাজুল ইসলাম ছিলেন একজন আদর্শ মুক্তিযোদ্ধা ও জনবান্ধব সরকারি কর্মকর্তা। তার মৃত্যুতে হোসেনপুর একজন দেশপ্রেমিক ও সৎ মানুষকে হারালো। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন,একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সৎ সরকারি কর্মকর্তাকে আমরা হারালাম। তার অবদান হোসেনপুরবাসী চিরদিন মনে রাখবে।