স্টাফ রিপোর্টার, ভালুকা।।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা সহকারী রিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বিভাগটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। এই ব্যাপারে ওই বিভাগের জেলা উপ পরিচলক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রিয়াজ আহমেদ প্রায় ১৩ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে এমনকি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে সুসম্পর্ক আছে দাবি করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও বদলির হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাকে দূরবর্তী এলাকায় বদলির ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেছেন একাধিক কর্মচারী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাঠকর্মী অভিযোগ করেন, টিএ বিল, পরিবহন বিল, পেনশনভোগীদের বিভিন্ন কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণসহ নানা ক্ষেত্রে হয়রানি করা হয়। এমনকি ভ্রমণ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। দাবিকৃত অর্থ প্রদান না করলে বিল প্রক্রিয়াকরণে গড়িমসি কিংবা নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হয় বলে তারা জানান।
কর্মচারীরা আরও অভিযোগ করেন, রিয়াজ আহমেদ প্রায়ই তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নিজের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে বহাল রয়েছেন। অতীতে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগে বদলির আদেশ হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এ্যাপোলো কলেজ এলাকায় কোটি টাকা খরচ করে তিনি চারতলা ফাউন্ডেশনের একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিভাগটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী রিয়াজ আহমেদের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে, তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি চাকরীর প্রথম থেকে অর্থাৎ ১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকেই এই স্টেশনে কর্মরত আছেন। টি বিল ২০২১ সাল থেকে অনলাইনে হয়ে থাকে। কমিশন নেয়ার বিষয়টি ঠিক না। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার চলারই কথা নেই, চারতলা বাড়ি নির্মাণ কিভাবে সম্ভব, তা সরাসরি কথা বললেই বুঝা যাবে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ রাজিব জানান, তার অফিসে ৮০ জন মাঠকর্মী কর্মরত আছেন। তাদের বছরে দু’টি টিএ বিল দেয়া হয়ে থাকে। টিএ বিলের বিষয়ে কোনরকম কমিশন কাটার কারো একতিয়ার নেই। যদি এরকম ঘটনা ঘটে থাকে, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলে, ৫ বছর ধরে তিনি এই উপজেলায় কর্মরত আছেন, আর অফিস সহকারী রিয়াজ আছেন প্রায় ১০/১২ বছর। বদলীর বিষয়টা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের।
ময়মনসিংহ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক আলী আমজাত জানান, অন্য দপ্তরের মতো এই বিভাগে বদলীর কোন নিতিমালা নেই। ভালুকার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তবে বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।