ভালুকায় কোম্পানির বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন :

স্টাফ রিপোর্টার দিগন্তবার্তা ডটকম।।

ময়মনসিংহের ভালুকায় বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারী ও তার ছেলের প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৫৬ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাঠালী এলাকায় ওই জবরদখলের ঘটনাটি ঘটে। ওই ঘটনায় ভূক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) বরাবরে পৃথক অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভালুকা পৌরসভার কাঁঠালি গ্রামের মৃত রুহুল আমীন সরকারের স্ত্রী মোছাম্মত রুপালী বেগম আরওআর জোতদারের নিকট থেকে ক্রয় সূত্রে উপজেলার কাঁঠালী মৌজার ২৭১ নম্বর দাগের এক একর ১৬ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। ওই জমি থেকে এক ছেলে ও তিন মেয়েকে হেবামূলে ৩২ শতক জমি প্রদান এবং একব্যক্তির কাছে ১৪ শতক জমি বিক্রির পর তার ৭০ শতক জমি অবিশিষ্ট ছিলো এবং দীর্ঘদিন ধরে ছেলে হৃদয় মায়ের ও নিজের ওই জমিতে মাছ চাষ করে আসছিলেন। এদিকে, বিকন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গত বছরের জুন মাস থেকে রূপালী বেগমের ওই জমি থেকে ৫৩ শতক এবং হৃদয়ের সাড়ে তিন শতকসহ মোট সাড়ে ৫৬ শতাংশ জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলো। এবিষয়ে পৃথক আদালতে দু’টি মামলা চলমান। তারই ধারাবাহিকতায় বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড কর্তপক্ষ গত ৪ ডিসেম্বর মাটি ভরাট, ইটের দেয়াল নির্মাণ এবং টিনের বেড়া দিয়ে রূপালী বেগম ও তার ছেলের সাড়ে ৫৬ শতক জমি জবরদখল করে নেয়। ওই সময় ভূক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে পৃথক অভিযোগ করেন।

অমিত হাসান হৃদয় জানান, নিজের এবং মা রূপালী বেগমের ওই জমিতে তিনি বহু বছর যাবৎ মাছচাষ করে আসছিলেন। সিএস, আরওআর ও বিআরএস থেকে আমাদের জমি কাগজপত্রের ধারাবাহিকতা সঠিক রয়েছে। বিকন ফার্মা’র এমডি এবায়দুল করিমের মৃত্যুর পর তার ছোট ছেলে উলফত করিম কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে আইন আদালতকে তোয়াক্কা না করে পেশি শক্তির জোরে স্থানীয় ভূমি দস্যুদের মাধ্যমে তাদের জমি জবরদখল করে নিয়েছেন।

বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের অ্যাডমিন ম্যানেজার ফাইজার রশিদ বলেন, ‘আমাদের কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সঠিক দলিলপত্র দেখেই জমি কিনেছে। আমরা সম্পুর্ণ লিগ্যাল অবস্থানে আছি। যারা দাবি করছে তারা সম্পূর্ন ইলিগ্যাল। আদালতে দুটি মামলার কারণ দর্শানো নোটিশ জারির পরও মাটি ফেলে ওই জমি ভরাট ইটের ওয়াল ও টিনের ভেড়া দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার আছে তারা বিষয়টি দেখাশুনা করছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ইকবাল হোসাইন জানান, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শুনানি ও উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিস্তারিত বলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!