ভালুকায় জালিয়াতির মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন :

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা, ১৪ জানুয়ারীঃ

ময়মনসিংহর ভালুকায় জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া দাতা সাজিয় আমমোক্তার নিয়ে সাবরেজিস্ট্রারকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে শ্রেণী পরিবর্তন ও কম মূল্য দেখিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৫০ শতাংশ বনভূমিসহ ৮৩ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি দলিলমূলে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বন আদালতে মামলার প্রস্ততি চলছে বলে স্থানীয় বনবিভাগ জানিয়েছে।
রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজলার খারোয়ালী গ্রামের মৃত ছালামত খানের ছেলে মো: মাহবুব খান ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী মেহেরাবাড়ি মৌজার বনবিজ্ঞপ্তিত ৮২ নম্বর দাগে পাশের ত্রিশাল উপজেলার স্বর্গীয় মনিদ্র চদ্র তরফদারের ছেলে গৌরাঙ্গ চদ্র তরফদার নামে এক ব্যক্তিকে ভূয়া দাতা সাজিয়ে তার ৫০ শতাংশ ও বেশ কয়েকজনকে ভূয়া দাতা সাজিয়ে এবং আরো কয়েকটি দাগ উল্লেখ করে ৩৩ শতাংশ আমমোক্তার দলিল (নম্বর-১৪২৩) করে নন। পরে বনবিজ্ঞপ্তিত ওই জমিসহ ৮৩ শতাংশ জমি ২০২১ সালের ২৮ জুন ৫৬২১ নম্বর দলিলমূলে সদ্য সাবেক সাবরেজিস্ট্রার মো: বোরহান উদ্দিন সরকারকে মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে শ্রেণী পরিবর্তন ও কম মূল্য উল্লেখ করে দালিল লেখক মো: ফাইজউদ্দিনর (সনদ নম্বর-৬৭২১) মাধ্যমে ঢাকার জনৈক আলহাজ্ব মিয়া মোহাম্মদ নূরুদ্দিনের কাছে ৫৪ লাখ টাকা বিক্রি করে দেন।
এ ব্যাপার জমির মালিক গৌরাঙ্গ চদ্র তরফদার তার সাথে প্রতারনার কথা স্বীকার করে বলেন, মাহবুব খানক তিনি চিনেননি। দলিল লেখক নাম জানা নই। তিনি একদিন আসছিলেন আমার কাছে কিন্তু তেমন কোন কথা হয়নি। তিনি কারো কাছে ওই মৌজায় তার জমি আমমোক্তার দেননি বলে জানান।
অভিযুক্ত মা: মাহবুব খান জানান, জমির মালিকদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি আমমোক্তার নিয়ে ঢাকার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছি। বিক্রয়কৃত ভূমির মাঝে মেহেরাবাড়ি মৌজার ৮২ নম্বর দাগে ৫০ শতাংশ ভূমি বনবিজ্ঞপ্তিত, কেমনে বিক্রি করলেন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
ভালুকা রেঞ্জের বনকর্মকর্তা মা: মহিউদ্দিন জানান, মেহরাবাড়ি মৌজার ৮২ নম্বর দাগে বনবিজ্ঞপ্তিত ৫০ শতাংশ জমি বিক্রির ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধিন।
ভালুকার সদ্য সাবেক সাবরেজিস্ট্রার মো: বোরহান উদ্দিনের মোবাইলে কল করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!