ভালুকায় নির্বাচনী হাওয়া, জামায়াতের ছাইফ উল্লাহ মাঠে সক্রিয়, বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না হলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসন ১৫৬, ময়মনসিংহ-১১, ভালুকা আসন ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রায় ১৬ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ফিরে পেয়ে সাধারণ মানুষ নির্বাচনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মাঠে এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠেছেন বিএনপির একাধিক এবং এনসিপি ও জামায়াতের একক প্রার্থী।
শিল্পাঞ্চল খ্যাত ময়মনসিংহ-১১, ভালুকা আসনের একটি পৌরসভাসহ ১১ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৫ জন। তার মাঝে পুরুষ ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৭ ও নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন ভোটার রয়েছেন। এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের দখলে ছিলো। এবার আওয়ামীলীগ মাঠে না থাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন ভালুকা উপজেলা জামায়াতের আমীর ছাইফ উল্লাহ পাঠান ফজলু। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে উপজেলার আনাচে কানাচে সভা সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি নিজেকে একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত থাকায় কে মনোনয়ন পাবেন বা কে মনোয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন, তা নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে রয়েছে ব্যাপক হিসেব নিকাশ ও আলোচনা, সমালোচনা। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক (বহিস্কৃত) ফখর উদ্দিন আহম্মদ বাচ্চু। আর অন্যদিকে মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম। উপজেলা বিএনপি আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহম্মদ বাচ্চু দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ করে আসছেন। এর আগেও তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। তাছাড়া নির্বাচনী মাঠে আছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম, সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল, জিয়া বিগ্রেড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আবুল হোসেন ও এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম।
ভালুকা উপজেলা জামায়াতের আমীর ছাইফ উল্লাহ পাঠান ফজলু বলেন, দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়ার আগেই তিনি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সংগঠনগুলো শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে উপজেলার আনাচে কানাচে চষে বেড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার অবস্থান খুবই একটি শক্ত খুঁটির উপর দাঁড় করাতে পেরেছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে এই আসন থেকে দাঁড়ি পাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ্।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক (বহিস্কৃত) ফখর উদ্দি আহম্মদ বাচ্চু বলেন, তার উপর থেকে সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়ে তাকেই মনোনয়ন দিবেন বলে তিনি আশাবাদি। ইতোমধ্যে তিনি হাই কমান্ড থেকে ওই রকমই আশ^াস পেয়েছেন। তাই তার অবস্থান থেকে উপজেলার সর্বত্রই সভা সমাবেশ করে চলেছেন।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে উপজেলা বিএনপির আহবায়কের পদসহ বিএনপির সকল পদ থেকে ফখর উদ্দিন আহম্মদ বাচ্চুকে অব্যাহতি দেয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ওই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দলীয় হাইকমান্ড তাকে মনোনয়নের ব্যাপারে আশ^স্থ্য করেছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবদানে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন বলে আশাবাদি।
জিয়া বিগ্রেড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আবুল হোসেন বলেন, তিনি ছাত্র জীবন থেকেই বিএনপির সাথে জড়িত ছিলেন। স্বেচ্ছায় চাকরী থেকে অবসর নেয়ার পর জিয়া বিগ্রেড কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব নেন এবং দলের অকজন অকুতবয় কর্মী হিসেবে নিজেকে আত্ম নিয়োগ করেছেন। এলাকায় স্কুল কলেজ মাদরাসাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটারদেরধারে ধারে গিয়ে সমর্থন আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, তিনিই মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদি এবং কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তিনি উপজেলার সর্বত্রই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি দলের প্রতীক ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে ধীর প্রতিক্ষ।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ভালুকা উপজেলার পশ্চিম এলাকার বাসিন্দা ডা. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ভালুকাকে একটি আদর্শ ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ভালুকা ইতোমধ্যে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে, তবে এ শিল্পায়নের ফলে আমাদের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা নতুন ও উন্নত ভালুকা গড়তে চাই। এনসিপি বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করবে। নারীদের সকল স্তরে এবং সকল খাতে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও এনসিপি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় যে সকল বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে, সেগুলো দূরীকরণে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করবে এনসিপি। এছাড়াও, বন বিভাগ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানে এনসিপি বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন। ইনশাআল্লাহ।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!