একাধিক মামলার আসামী হয়েও প্রকাশ্যে অফিস করছেন টঙ্গী দলিল লেখক সমিতির সভাপতি টুটুল

শেয়ার করুন :

গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একাধিক হত্যা মামলার আসামী টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান টুটুল প্রকাশ্যেই অফিস করছেন। সমিতির আসন্ন নির্বাচনে আবারো সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
সাধারণ দলিল লেখকরা জানান, কামরুজ্জামান টুটুল গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য,  সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের আত্মীয় হওয়ার সুবাধে টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিগত দিনে তার ব্যাপক আধিপত্য ছিল। প্রতিমন্ত্রী রাসেল এবং তার চাচা মতিউর রহমান মতি ও নূরুল ইসলামের সম্পত্তি তদারকি করতেন দলিল লেখক কামরুজ্জামান টুটুল। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব সম্পত্তির কাগজপত্রও টুটুলের কাছে সংরক্ষিত। রাসেল পরিবারের সদস্য হিসেবে খ্যাত টুটুল একজন জুনিয়র দলিল লেখক হয়েও দলীয় প্রভাবে টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সভাপতির পদ ভাগিয়ে নেন। এর আগে তিনি সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করলেও মূলত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ছিল তার একক নিয়ন্ত্রণে। আওয়ামী আমলে দলিল নিবন্ধনে জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্নভাবে সরকারকে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে নিজে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। অল্প বয়সেই নামে-বেনামে একাধিক বাড়ি, গাড়িসহ অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। টঙ্গীর অভিজাত এলাকা খ্যাত আউচপাড়া সফিউদ্দিন রোডেই রয়েছে তার ৬ তলা আলিশান বাড়ি। তার ছোট ভাই দলিল লেখক ইমান হোসেনের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে খ্যাত ইমান গত ২০ জুলাই ও ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে টঙ্গীর শালিকচূড়া এলাকায় প্রকাশ্যে রাম দা নিয়ে মহড়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একাধিক ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামী টুটুল-ইমান সহোদর ফ্যাসিবাদ সরকারের পতনের পরও টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। তারা স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতাকে মোটা অংকের প্রস্তাব দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ কায়সার আহমেদ বলেন, আমরা টুটুলকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। সে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসে বেশিক্ষণ অবস্থান করে না, কৌশলে দ্রæত কেটে পড়ে। তাকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের সিভিল টীম কাজ করছে। টুটুলের ভাই ইমান পলাতক রয়েছে। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
#


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *