আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।। 
ময়মনসিংহের ভালুকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও বেঁচে যাওয়া শিশুর পরিচয় মিলেছে।
মায়ের নাম জায়েদা খাতুন (৩২)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দুয়ারাবাজার উপজেলার খুশিউড়া গ্রামের মো. রমিজ উদ্দিনের মেয়ে। গত বৃহস্পতিবার (৯মে) মধ্যরাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকার মাস্টারবাড়ি আইডিয়ালমোড় এলাকায় ওই দুর্ঘটনাটি ঘটলে মা ও শিশু জাহিদ হোসেন (২) গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা সরকারী হাসপাতাল ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টায় মা জায়েদা মারা যান। বতর্মানে শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
একটি সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী জেলার পলাশ থানার নোয়াকান্দা গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক মিয়ার সঙ্গে নিহত জায়েদা খাতুনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ফরুকের ঘরে প্রথম স্ত্রীসহ তিনটি সন্তান রয়েছে।
যে কারণে জায়েদার বিয়ে মেনে নেয়নি ফারুকের পরিবার। ফলে জায়েদার সঙ্গে তার স্বামীর যোগাযোগ না থাকায় তিনি ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় শিশু জাহিদকে নিয়ে বসবাস করতেন। মধ্যরাতে তিনি শিশু সন্তানকে নিয়ে কিভাবে দুর্ঘটনার শিকার হন, তা কেউ বলতে পারছেন না, অনেকেই ধারণা করছেন, কোন উপায়ান্তর না পেয়ে জায়েদা তার শিশু সন্তানকে নিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
নিহত জায়েদার বড় ভাই মো. রবিন মিয়া বলেন, ফেইসবুকের মাধ্যমে তার বোন জায়েদার মৃত্যুর খবর পান তারা। থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ নিতে আসছেন।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে স্কয়ার মাস্টার বাড়ি এলাকায় ওই শিশু ও তার মা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে কীভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যায়নি। পরে ৯৯৯ কল পেয়ে পুলিশ ওই শিশু ও তার মাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখান মা মারা যান। তবে সেখানে আহত শিশুটির চিকিৎসা চলছে।