প্রকাশিত হয়েছেঃ নভেম্বর ১৯, ২০২৩ সময়ঃ ৪:১২ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ ১১, ভালুকা আসন থেকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের অন্তত ১২ জন ব্যক্তি মনোনয়ন চান। ইতোমধ্যে অনেকেই দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচনে এলে এই আসন থেকে বিএনপির দুইজনের নাম শোনা যাচ্ছে। ভালুকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৮৩ হাজার ১৯ জন ও মহিলা এক লাখ ৭৮ হাজার ৪৪২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১০২ টি। ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এই আসনটি গঠিত।
ভালুকা উপজেলায় তিন শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান অধ্যুষিত শিল্পনগরী। এই খাত থেকে ভালুকা বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপিতে উল্ল্যেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখছে। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০১ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী বিরোধী শিবিরের দখলে ছিলো। ২০০৬ সালের পর সেনাস্বাশিত সরকার আসার পর ২০০৯ নির্বাচনে এই আসনটি চলে যায় আ’লীগের দখলে। তারপর ২০১৪ ও ২০১৮ পর পর দুইবার আ’লীগ এ আসনের এমপি নির্বাচিত হয়। আ’লীগ এ আসনটি আ’লীগের ঘাঁটি বলে দাবী করে।
শিল্পাঞ্চল হওয়ায় কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সাড়াদেশের বিভিন্ন স্থানের প্রায় ২০ লাখ লোক ভালুকায় বসবাস করেন। যে কারনে এ আসনটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন আসনগুলোর একটি । ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সনের নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট মোস্তফা এমএ মতিন জাসদের প্রার্থী আফসার উদ্দিন আহম্মেদ ও শাহ রমজানকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে মুসলিমলীগ থেকে আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিয়া ও ১৯৮৬ সালে আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিয়ার ছেলে আমান উল্লাহ চৌধুরী বিজয়ী এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর (অব:) আব্দুল হামিদ বিএনপি প্রার্থী আমান উল্লাহ চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ১৯৯১ সনে বিএনপি প্রার্থী আমান উল্লাহ চৌধুরী বিএনপি প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে থেকে আ’লীগ প্রার্থী ডা. এম আমান উল্লাহ এ আসন থেকে চার বার এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সনে আ’লীগ প্রার্থী কাজিমউদ্দিন আহম্মেদ ধনু বিএনপি প্রার্থী ফখরউদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুকে পরাজিত করে বিজয়ী হন ।
বর্তমানে ভালুকায় বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত এক গ্রæপের নেতৃত্বে ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু ও অপর গ্রæপের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম। দলীয় কর্মসুচি পৃথক ভাবে পালন করে তারা। সম্প্রতি মোর্শেদ আলম গ্রæপ বেশ চাঙ্গা। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় ও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলায় আসামী থাকায় বিভিন্ন কর্মসূচী পালনেই সীমাবদ্ধ থাকে। দল নিরপেক্ষ নির্বাচন ও সঠিক প্রার্থী দিতে পারলে আ’লীগ ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডী লড়াই হবে।
আ’লীগের কয়েকটি গ্রæপ থাকলেও দলীয় কর্মসুচী এক সাথে পালন করে তারা। মনোনয়নের জন্য আবারো চেষ্টা করে চলেছেন বর্তমান এমপি আলহাজ¦ কাজিম উদ্দিন আহম্মদ ধনু, নারী এমপি মনিরা সুলতানা মনি, ডেপুটি এ্যাটর্নী জেনারেল শাহ আশরাফুল হক জজ, ময়মনসিংহ জেলা আ’লীগের সহসভাপতি আলহাজ¦ এমএ ওয়াহেদ, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম, জেলা আ’লীগের কোষাধ্যক্ষ হাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মনিপুরি ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি সাহাদাত ইসলাম চৌধুরী মিন্টু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লব, সাবেক এমপি অধ্যাপক এম আমান উল্যাহর ছেলে ডা. মোনাসির সাকিফ আমান উল্লাহ ও অ্যাডভোকেট রাখাল চন্দ্র সরকার। এদিকে বিএনপি নির্বাচনে এলে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু ও যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমের নাম শোনা যাচ্ছে। তাছাড়া আ’লীগের সাথে ঐক্য না হলে জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক হাফিজ উদ্দিন মাষ্টার নির্বাচন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এমপি আলহাজ¦ কাজিম উদ্দিন আহম্মদ ধনু বলেন, তিনি ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ও সভাপতি, যুবলীগের সেক্রেটারী ও সভাপতি, একবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও একবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত চার বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বর্তমানে ভালুকায় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার কাজ চলমান।
অ্যাডভোকেট মোস্তফা এমএ মতিন এর কন্যা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সংরক্ষিত মহিলা সংসদ (ময়মনসিংহ) সদস্য মনিরা সুলতানা বলেন, তিনি মুমিনুন্নেছা কলেজের ছাত্র সংসদে ৩ বার ভিপি, দুইবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ (ময়মনসিংহ) সদস্য হিসাবে এলাকায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যাচ্ছেন। আগামীতেও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে অগ্রণী ভ‚মিকা রেখে যেতে চান।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা বলেন, ভালুকার আসনটি আ’লীগের ঘাটি। ১৯৯৬ থেকে অদ্যবদি নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ত্যাগী নেতা কর্মীদের মাঝ থেকে যাচাই করে মনোনয়ন দিলে আসনটি পুনরায় আ’লীগ বিজয়ী হবে।
জেলা আ’লীগের সহসভাপতি আলহাজ¦ এমএ ওয়াহেদ বলেন, তিনি ব্যক্তিগত অবস্থান থেকেই মানুষের সেবা ও সমাজের উন্নয়নধর্মী কর্মকান্ড করে আসছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ও জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্থ কর্মী হিসেবে তিনি আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাঃ কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম বলেন, তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি স্বাচিপের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক কর্মী হিসেবে তিনি মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি ভালুকার আসনটি আবারো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দেলনের ভালুকার আহবায়ক ঢাকাস্থ ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমিতির সাধারন সম্পাদক, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শাহ আশরাফুল হক জজ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আধুনিক ডিজিটাল দেশে পরিনত করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন সহযোগী হয়ে পাশে থাকতে চান।
দুইবার নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু বলেন, তিনি স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ করেছেন। দুই বার বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনপ্রিয়তার শীর্ষের ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দিলে নৌকা এবারো বিজয়ী হবে ।
কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব বলেন, মইন উ আহম্মেদের সময়ে তিনি কারা নির্যাতিত হয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সকল কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন তা বাস্তবায়নে যাকে মনোনয়ন দিবেন তাকে বিজয়ী করে নেত্রীকে নোকার এ আসনটি উপহার দিতে চান।
চারবারের সাবেক সাংসদ অধ্যাপক ডা. এম আমান উল্লাহর ছেলে ঢাকা ল্যাবএইড হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. মোনাসির সাকিফ আমান উল্লাহ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার যে পরিকল্পনা ভালুকা উপজেলার উন্নয়ন ও ভালুকা উপজেলা আ’ লীগের ভবিষ্যত নিয়ে, তা বাস্তবায়ন করার লক্ষে তিনি কাজ করতে চান।
ঢাকা মনিপুরি ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি শাহাৎ ইসলাম চৌধুরী মিন্টু বলেন, তিনি ১৯৮৫ ও ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচন করে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মনিপুরী পাড়া ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু বলেন, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক দিয়ে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। তিনি বর্তমানে ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে বিএনপির থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছেন।
মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বর্তমানে ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক। ছাত্রদল দিয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। শিল্পনগরী হবিরবাড়ি ইউপি থেকে তিনি বিপুল ভোটে একবার চেয়াম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ চেয়ারম্যান ফোরামের মহাসচিব নির্বাচিত হন। আন্দোলন সংগ্রামে তার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন মাষ্টার বলেন, দলের মনোনয়ন পেলে আধুনিক ভালুকা গড়তে তিনি ভ‚মিকা রাখবেন।
ভালুকা উপজেলায় তিন শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান অধ্যুষিত শিল্পনগরী। এই খাত থেকে ভালুকা বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপিতে উল্ল্যেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখছে। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০১ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী বিরোধী শিবিরের দখলে ছিলো। ২০০৬ সালের পর সেনাস্বাশিত সরকার আসার পর ২০০৯ নির্বাচনে এই আসনটি চলে যায় আ’লীগের দখলে। তারপর ২০১৪ ও ২০১৮ পর পর দুইবার আ’লীগ এ আসনের এমপি নির্বাচিত হয়। আ’লীগ এ আসনটি আ’লীগের ঘাঁটি বলে দাবী করে।
শিল্পাঞ্চল হওয়ায় কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সাড়াদেশের বিভিন্ন স্থানের প্রায় ২০ লাখ লোক ভালুকায় বসবাস করেন। যে কারনে এ আসনটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন আসনগুলোর একটি । ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সনের নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট মোস্তফা এমএ মতিন জাসদের প্রার্থী আফসার উদ্দিন আহম্মেদ ও শাহ রমজানকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে মুসলিমলীগ থেকে আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিয়া ও ১৯৮৬ সালে আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিয়ার ছেলে আমান উল্লাহ চৌধুরী বিজয়ী এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর (অব:) আব্দুল হামিদ বিএনপি প্রার্থী আমান উল্লাহ চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ১৯৯১ সনে বিএনপি প্রার্থী আমান উল্লাহ চৌধুরী বিএনপি প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে থেকে আ’লীগ প্রার্থী ডা. এম আমান উল্লাহ এ আসন থেকে চার বার এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সনে আ’লীগ প্রার্থী কাজিমউদ্দিন আহম্মেদ ধনু বিএনপি প্রার্থী ফখরউদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুকে পরাজিত করে বিজয়ী হন ।
বর্তমানে ভালুকায় বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত এক গ্রæপের নেতৃত্বে ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু ও অপর গ্রæপের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম। দলীয় কর্মসুচি পৃথক ভাবে পালন করে তারা। সম্প্রতি মোর্শেদ আলম গ্রæপ বেশ চাঙ্গা। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় ও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলায় আসামী থাকায় বিভিন্ন কর্মসূচী পালনেই সীমাবদ্ধ থাকে। দল নিরপেক্ষ নির্বাচন ও সঠিক প্রার্থী দিতে পারলে আ’লীগ ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডী লড়াই হবে।
আ’লীগের কয়েকটি গ্রæপ থাকলেও দলীয় কর্মসুচী এক সাথে পালন করে তারা। মনোনয়নের জন্য আবারো চেষ্টা করে চলেছেন বর্তমান এমপি আলহাজ¦ কাজিম উদ্দিন আহম্মদ ধনু, নারী এমপি মনিরা সুলতানা মনি, ডেপুটি এ্যাটর্নী জেনারেল শাহ আশরাফুল হক জজ, ময়মনসিংহ জেলা আ’লীগের সহসভাপতি আলহাজ¦ এমএ ওয়াহেদ, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম, জেলা আ’লীগের কোষাধ্যক্ষ হাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মনিপুরি ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি সাহাদাত ইসলাম চৌধুরী মিন্টু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লব, সাবেক এমপি অধ্যাপক এম আমান উল্যাহর ছেলে ডা. মোনাসির সাকিফ আমান উল্লাহ ও অ্যাডভোকেট রাখাল চন্দ্র সরকার। এদিকে বিএনপি নির্বাচনে এলে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু ও যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমের নাম শোনা যাচ্ছে। তাছাড়া আ’লীগের সাথে ঐক্য না হলে জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক হাফিজ উদ্দিন মাষ্টার নির্বাচন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এমপি আলহাজ¦ কাজিম উদ্দিন আহম্মদ ধনু বলেন, তিনি ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ও সভাপতি, যুবলীগের সেক্রেটারী ও সভাপতি, একবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও একবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত চার বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বর্তমানে ভালুকায় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার কাজ চলমান।
অ্যাডভোকেট মোস্তফা এমএ মতিন এর কন্যা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সংরক্ষিত মহিলা সংসদ (ময়মনসিংহ) সদস্য মনিরা সুলতানা বলেন, তিনি মুমিনুন্নেছা কলেজের ছাত্র সংসদে ৩ বার ভিপি, দুইবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ (ময়মনসিংহ) সদস্য হিসাবে এলাকায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যাচ্ছেন। আগামীতেও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে অগ্রণী ভ‚মিকা রেখে যেতে চান।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা বলেন, ভালুকার আসনটি আ’লীগের ঘাটি। ১৯৯৬ থেকে অদ্যবদি নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ত্যাগী নেতা কর্মীদের মাঝ থেকে যাচাই করে মনোনয়ন দিলে আসনটি পুনরায় আ’লীগ বিজয়ী হবে।
জেলা আ’লীগের সহসভাপতি আলহাজ¦ এমএ ওয়াহেদ বলেন, তিনি ব্যক্তিগত অবস্থান থেকেই মানুষের সেবা ও সমাজের উন্নয়নধর্মী কর্মকান্ড করে আসছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ও জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্থ কর্মী হিসেবে তিনি আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাঃ কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম বলেন, তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি স্বাচিপের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক কর্মী হিসেবে তিনি মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি ভালুকার আসনটি আবারো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দেলনের ভালুকার আহবায়ক ঢাকাস্থ ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমিতির সাধারন সম্পাদক, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শাহ আশরাফুল হক জজ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আধুনিক ডিজিটাল দেশে পরিনত করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন সহযোগী হয়ে পাশে থাকতে চান।
দুইবার নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু বলেন, তিনি স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ করেছেন। দুই বার বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনপ্রিয়তার শীর্ষের ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দিলে নৌকা এবারো বিজয়ী হবে ।
কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব বলেন, মইন উ আহম্মেদের সময়ে তিনি কারা নির্যাতিত হয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সকল কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন তা বাস্তবায়নে যাকে মনোনয়ন দিবেন তাকে বিজয়ী করে নেত্রীকে নোকার এ আসনটি উপহার দিতে চান।
চারবারের সাবেক সাংসদ অধ্যাপক ডা. এম আমান উল্লাহর ছেলে ঢাকা ল্যাবএইড হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. মোনাসির সাকিফ আমান উল্লাহ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার যে পরিকল্পনা ভালুকা উপজেলার উন্নয়ন ও ভালুকা উপজেলা আ’ লীগের ভবিষ্যত নিয়ে, তা বাস্তবায়ন করার লক্ষে তিনি কাজ করতে চান।
ঢাকা মনিপুরি ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি শাহাৎ ইসলাম চৌধুরী মিন্টু বলেন, তিনি ১৯৮৫ ও ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচন করে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মনিপুরী পাড়া ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু বলেন, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক দিয়ে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। তিনি বর্তমানে ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে বিএনপির থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছেন।
মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বর্তমানে ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক। ছাত্রদল দিয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। শিল্পনগরী হবিরবাড়ি ইউপি থেকে তিনি বিপুল ভোটে একবার চেয়াম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ চেয়ারম্যান ফোরামের মহাসচিব নির্বাচিত হন। আন্দোলন সংগ্রামে তার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন মাষ্টার বলেন, দলের মনোনয়ন পেলে আধুনিক ভালুকা গড়তে তিনি ভ‚মিকা রাখবেন।
মোট পড়া হয়েছে: ৪৭৭
সর্বশেষ খবর
- ময়মনসিংহে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
- “এবারের নির্বাচন হবে সন্ত্রাস,গুন্ডামী ও লুটতরাজের বিরুদ্ধে”..আল্লামা মামুনুল হক
- শেরপুর-৩ আসনের জামায়তে প্রার্থীর মৃত্যু
- ভালুকায় এনসিপি প্রার্থীর ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা
- ঈশ্বরগঞ্জে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

