প্রকাশিত হয়েছেঃ আগস্ট ২৩, ২০২৩ সময়ঃ ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

Spread the love

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে একটি বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকদের শতশত মন ধানের জমি দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচে পড়ে আছে। বার বার প্রতিবাদ করা সত্বেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে উপজেলার পাড়াগাঁও চাঁনপাড়া এলাকায় স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে একটি কোম্পানীর নামে জমি ক্রয় শুরু করেন। সামান্য চালা জমি কেনার পর বেশ কয়েক একর নিচু জমি (বোরো) কিনে মাটি ভরাট শুরু করেন। পরে ওই জমির উপর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষে বিশাল বিশাল ইমারত নির্মাণ করা হয়। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে দুই ফসলি জমি পানির নিচে ডুবে গিয়ে আশপাশ এলাকায় বিশাল জলাভূমিতে পরিনত হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, কৃষিজমিতে শিল্প নির্মাণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে গ্রামের পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল বন্ধ করে কারখানা গড়ে তোলছেন মিল কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন শুরুর আগেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে দুই ফসলি শতশত মন ধানের জমি পানির নিচে ডুবে আছে। প্রতিবাদ করেও কোন লাভ না হওয়ায় অনেকেই পানির দামে শিল্প-কারখানার মালিকদের কাছে জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
পাড়াগাঁও চটানপাড়ার কৃষক আজিজুল হক জানান, স্থানীয় মোরাদ হোসেন বিপ্লবের নেতৃত্বে নির্মাণাধিন কারখানার পক্ষে বিভিন্ন কৌশলে জালজালিয়াতির মাধ্যমে কমদামে জমি কিনে মাটি ভরাট করছেন। এতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে দুই মওসুম ধরে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না স্থানীয়রা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার মানসিক প্রতিবন্ধী বড়ভাই ফজলুল হকের জমিও জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন বিপ্লব। তার ভাই পৌত্রিক হিস্যানুযায়ী ৫১.৫০ শতাংশ জমি পেলেও রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন এক একর। পরে তা আদালতে দলিলপন্ডের মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে মোরাদ হোসেন বিপ্লব জোরজবদস্তি করে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে মাছের খামারসহ তাদের এক একর ৪০ শতাংশ জমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন।
এদিকে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে কারখানার কাজ করার কারণে পাড়াগাঁও চাঁনপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক গংদের ৭ বিঘা, হাজি শমসের আলীর ২০ বিঘা, সাদেক, আলীম, রাজ্জাক ও সেলিমের ১০ বিঘা, আব্দুল হাই ও সোহেলের ৬ বিঘা, নজরুল, মকবুল, নুরে আলম ও সালাউদ্দিনের ৭ বিঘা, শামছুল হক, আজিজ, মজিদ, নাজিম ও সুমেজের ৮ বিঘা, সাহেদ আলীর ৩ বিঘা, মোজাফ্ফর সিদ্দিকির ১৫ বিঘা ও আব্দুল খালেকের ২ বিঘাসহ স্থানীয় আরো অনেক কৃষকের জমি দুই মওসুম ধরে পানির নিচে ডুবে থাকায় ফসল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, কারখারার অপরিকল্পিতভাবে ইমারত নির্মাণ ও ফসলি জমি মাটি ভরাটের কারণে তাদের দুই ফসলি জমি দুই মওসুম ধরে পানির নিচে ডুবে থাকলেও মোরাদ হোসেন বিপ্লবের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছেনা। তবে অভিযুক্ত মোরাদ হোসেন বিপ্লবের মোবাইল ফোনে অনেকবার চেষ্টা করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জেসমিন জাহান জানান, কৃষি জমিতে কারখানা করা যাবে কিনা, তা তার জানা নেই। তাছাড়া কারখানা নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফসলের ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষকদের লিখিত অভিযোগ ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রকাশক ও সম্পাদক

আসাদুজ্জামান (ফজলু)

হাউজ নং: ২০, ফ্ল্যাট নং: বি২, রোড নং: ০৭

সেকশন: ১২, উত্তরা, ঢাকা – ১২৩০

মোবাইল: ০১৭১৮-১৯২৬৮৫, ০১৭৬১-৫৮২৩৩৮

ইমেইল: contact@digontabarta.com