প্রকাশিত হয়েছেঃ আগস্ট ১, ২০২৩ সময়ঃ ২:০২ অপরাহ্ণ

Spread the love

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় সরকারী চাকুরে এক দম্পতিকে প্রভাবশালীর একটি চক্রের মাধ্যমে নানাভাবে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় তদন্তে অভিযোগগুলো মিথ্যে প্রমানীত হওয়ার পরও চক্রটি ওই পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ঘটনাটি উপজেলার কাদিগড় গ্রামে।
সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার কাদিগড় গ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা সালেহ ইমরান ও তার স্ত্রী কাদিগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূপুর আক্তারের বিরুদ্ধে স্কুলের জমি দখল ও ও স্কুলের পুরাতন ভবনের মালামাল আত্মসাতের বিষয় উল্লেখ করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ তালুকদার নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট সোমাইয়া আক্তারকে প্রধান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোমাইয়া আক্তার কমিটির অন্য সকল সদস্যদের নিয়ে দিনব্যাপী সরেজমিন তদন্ত ও স্কুলের জমির মাপযোগ করে স্কুলে উপস্থিত স্থানীয় শতাধিক মানুষের সামনে তদন্ত কমিটির প্রধান স্কুলের জমি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়ে আসেন। এসময় ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত কোন অভিযোগের প্রমাণ পাননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি, অভিভাবক ও কমিটির সাবেক কয়েক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ হওয়ার পরও সাবেক সভাপতি কালাম তালুকদার, ছাইফুল ইসলাম, জুয়েল ও আলামিন গংরা নতুন করে এখন আবার ওই প্রধান শিক্ষিকাকে অন্যত্র বদলীর জন্য রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন মহলে তদবীর শুরু করেন।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে বদলী করার এই ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের অভিভাবক, কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাগন ওই শিক্ষিকাকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে বহাল রাখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আলাদা তিনটি দরখাস্ত করেন।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূপুর আক্তার জানান, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে কেন্দ্র করে সাবেক সভাপতি তাকেসহ তার স্বামীর ক্ষতি করার জন্য মিথ্যে ও বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করছেন। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যে প্রমানিীত হলেও এখন তাকে বদলী করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ আহমদ জানান, ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত কোন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি, সবগুলো অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে জানান তিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও তদন্ত কমিটির প্রধান সোমাইয়া আক্তার জানান, স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সবগুলো অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্য তদন্ত করা হয়, এ সময় কোন অভিযোগই প্রমান করতে পারেনি বাদি পক্ষ। ওই শিক্ষিকা বা তার স্বামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগই সত্য নয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদুল আহমেদ জানান, তদন্তের পরও অভিযোগকারীর আপত্তি থাকায় তিনি গত সোমবার (৩১ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

প্রকাশক ও সম্পাদক

আসাদুজ্জামান (ফজলু)

হাউজ নং: ২০, ফ্ল্যাট নং: বি২, রোড নং: ০৭

সেকশন: ১২, উত্তরা, ঢাকা – ১২৩০

মোবাইল: ০১৭১৮-১৯২৬৮৫, ০১৭৬১-৫৮২৩৩৮

ইমেইল: contact@digontabarta.com