মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার নান্দাইল উপজেলার ছালুয়াপাড়া এলাকার মর্তুজ আলীর পুত্র দিলীপ মিয়া (৫৫) ও মোকসুদ (৫২), হালুয়াঘাট উপজেলার ভাড়ালিয়া এলাকার মৃত. সফর আলীর পুত্র মাদক মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী সুরুজ মিয়া (৪৫)। তাদেরকে সোমবার গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এবং ঢাকার আশুলিয়া হতে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (১১জুলাই) সকালে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এর তথ্য জানান।
র্যাব জানান, পূর্ব-শক্রতার জেরে ২০০৯ সালের ২২ জুন রাত অনুমান সাড়ে ১২ টায় বাড়ীর পাশে শিশু পারভেজ (১০) কে অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও ক্ষতবিক্ষত করে হত্যা করে। শিশু পারভেজকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় নান্দাইল থানা এলাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শিশুর পিতা বাদী হয়ে দিলীপ, মোকসুদ এবং মর্তুজ এর বিরুদ্ধে নান্দাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত ঘটনায় আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে দুই বছর হাজত বাস করে জামিনে মুক্তি পেয়ে পূর্বের ঘটনার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিম পারভেজের চাচা বাচ্চু‘ কে ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর প্রকাশ্য দিনে দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করে। বাচ্চু’কে হত্যায় তার পরিবার গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে নান্দাইল থানায় অপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। শিশু পারভেজ হত্যা মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে বাদীর আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানীত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামী দিলীপকে মৃত্যুদন্ড এবং আসামী মোকসুদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।
অপরদিকে, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সুরুজ মিয়াকে গত ২০১২ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী এক হাজার একশত বোতল ফেনসিডিলসহ র্যাব- ৯ ময়মনসিংহ ক্যাম্প গ্রেফতার করে হালুয়াঘাট থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় আসামী সুরুজের বিরুদ্ধে বাদীর আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামী সুরুজ‘কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান সনাক্তের মাধ্যমে ১০ জুলাই গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানা এলাকা এবং ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা এলাকা হতে তাদেরকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪।