ভালুকায় সাপের দেখা পেলেই ডাক পরে রাজুর : শতাধিক সাপ উদ্ধার

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
মানুষের বসত বাড়িতে এবং বিপদগ্রস্ত কোন সাপের সন্ধান থাকলেই আমাকে ডাকা হয়। আমি গিয়ে বিনামূল্যে সাপ উদ্ধার করে তার উপযুক্ত জায়গায় অবমুক্ত করে দেই। বললেন, বাংলাদেশ স্নেক রেসকিউ টিমের সভাপতি মোঃ রাজু আহমেদ। তিনি  ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে বর্তমানে অফিসার পদে চাকরী করছেন ভালুকার রানার মটরস লিমিটেডে।
রাজু আহমেদ বলেন,  গ্রামে বড় হওয়ায় ছোট থেকেই সাপের দেখা পেতাম অনেক। বিভিন্ন কাজে বার বার সাপের দেখা পাওয়ায় সাপের প্রতি ভালোবাসা শুরু হয়। সাপের প্রতি এক অন্যরকম আগ্রহ থাকতো সব সময়ই। যখন ক্লাস টু তে পাড়ি একদিন এক সাপুড়িয়া সাপ খেলা দেখাচ্ছিলো, খেলা দেখানোর মাঝে এক সময় একজন সাহসী ছেলেকে ডাকে, যার হাতে সাপ তুলে দিবে। আমি সবার আগে তার কাছে পৌঁছাই এবং আমার হাতে সাপ দিতে বলি, অনেক ছোট ছিলাম তাই আমার কাছে সাপ দিতে চাচ্ছিলো না সাপুড়ে কিন্তু আমার ইচ্ছে এবং সাহসিকতা দেখে দুইটা বড় সাপ আমার গলায় পেঁচিয়ে দেয়া হলো। আমি খেয়াল করলাম সাপগুলো আমাকে কামড় দিলো না। সাপের এমন আচরণ আমাকে খুব অবাক করলো। সাপ সম্পর্কে তখন থেকে নতুন করে জানতে শুরু করি। ডিসকভারি ও জিওগ্রফিক চ্যানেলগুলোয় সাপ সম্পর্কে জানতে থাকি। পাশাপাশি উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন বই পড়তে থাকি। কোন সাপগুলো নির্বিষ, কোনগুলো বিষধর, কোন সাপ বেশি দেখা যায়, কোনটা দিনে দেখা যায়, কোনটা রাতে দেখা যায়, জানতে থাকি, পাশা পাশি সাপের আচরণ সম্পর্কে ও জানতে শুরু করি।
সাপ ধরার কিছু কৌশল ও শিখে নেই। গ্রামে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় যখন নির্বিষ সাপগুলো জালে আটকে যায় তখন সাপকে রেসকিউ করে নিরাপদে ছেড়ে দিতাম, পরবর্তীতে সিদ্দিকুর রহমান রাব্বির নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিষধর সাপ ধরার ট্রেনিং নেই এবং যুক্ত হই “স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ” এর সাথে।
এখান পর্যন্ত নির্বিষ ও বিষধর মিলে শতাধিক সাপ রেসকিউ করেছি। বর্তমানে স্নেক রেসকিউ টিম এর সভাপতি হিসেবে আছি। মো: রাজু আহমেদ বলেন, সাপ নিয়ে কাজ করতে প্রথমে অনেকে এটা নিয়ে হাসি ঠাট্রা করতো, বেদে বা সাপুড়িয়া বলে ও ডাকতো। যখন থেকে দেখলো আমি মানুষের বাসস্থানে ঢুকে যাওয়া সাপ রেসকিউ করে তাদের বিপদমুক্ত করছি, এবং উক্ত সাপ বনে অবমুক্ত করে পরিবেশের ভারসম্য ঠিক রাখতে চেষ্টা কওে চলেছি, তখন থেকে সবাই এ কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। প্রথমে আমার পরিবারের লোকজন মানা করতো কিন্তু এখন আর তা করে না, তারাও আমাকে সাহস দেয়।
তিনি বলেন, সাপের নাম শুনলেই আমরা ভয় পেয়ে যাই, মারার জন্য অস্থির হয়ে যাই। একটু সচেতন থাকলে আমরা সাপের কামড় থেকে বাঁচতে পাড়ি। সাপ দেখলেই যদি আমরা মেরে ফেলি তাহলে আমাদেরকে অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
সাপের বিষ থেকে তৈরি  ওষুধ মানুষের বøাড প্রেসার, হার্ট ডিজিস, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের মতো রোগগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে। বাংলাদেশ প্রতি বছরে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ সাপের কামড়ে স্বীকার হয় এবং এর মধ্যে ৬ হাজার মানুষ মারা যায়। এই মারা যাওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ হলো সাপ সম্পর্কে প্রচলিত কুসংস্কার এবং এর চিকিৎসা পদ্ধতি। ওঝা, বেদে বা সাপুড়িয়া সাপে কাটা রোগীর কোন চিকিৎসা করতে পাড়ে না। বাংলাদেশে যে সমস্ত সাপ পাওয়া যায় তার মধ্যে  নির্বিষ সাপের পরিমাণ বেশি। আর এই নির্বিষ সাপের কামর খেলে কোন বিষক্রিয়া হয় না এবং চিকিৎসার ও প্রয়োজন পরে না। ওঝা, বেদেরা এটারই সুযোগ নেই, নির্বিষ সাপের কামড়ে রোগীকে সুস্থ করে তুলে। সাপ কুসংস্কার দূর করতে পাড়লে এবং সাপ সচেতনাই মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।
সাপ রেসকিউ এর জন্য আমাকে জানানো হলে তা বিনামূল্যে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করে দেব। যা আপনার এবং সাপ এর দুইজনের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *