আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে নষ্ট, বাতিল ব্যাটারি ও পুরোনো লোহার বর্জ্য সংগ্রহ করে সিসা গলানোর কারখানা। এর ক্ষতিকারক ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ, ক্ষতি করছে মানবদেহের, নষ্ট করছে ফসল ও জমি। শুধু যে কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তা নয়, এখানে কর্মরত কর্মচারীরাও রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। তাছাড়া আশপাশের ঘাস খেয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পশুপাখির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের পাইলাব গ্রামের আরগুণা নামক স্থানে ¯øুইসগেইটের দক্ষিণপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে পুরনো ব্যাটারীর সিসা পুড়ানোর কাজ। এতে কারখানায় পোড়ানো ব্যাটারির অ্যাসিডের উৎকট গন্ধে লোকজন অতিষ্ঠ। এর বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কারখানাটির আশপাশের ঘাস খেয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গরু ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া ফসলি জমি ও গাছপালারও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কারখানার আশপাশের ঘাস খেয়ে স্থানীয় জয়নাল মিয়ার একটি ষাড় ও মুনসুর আলীর গাভী বাছুরসহ পাশের শ্রীপুর উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের অনেকেরই পশু মারা গেছে। তাছাড়া স্থানীয় রুহুল মিয়ার একটি বড় গাভী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে উপজেলা উপসহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো: মুনসুরুল হকের চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ্য হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, স্থানীয় এক প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় টিনের বেড়া দিয়ে সাইনবোর্ড বিহিন গড়ে উঠা ওই কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ব্যাটারী থেকে সিসা পুড়ানো হচ্ছে। এতে কারখানার আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে আবাদি জমির ধানের ক্ষতিসহ বিভিন্ন গাছপালার ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া এলাকার মানুষের শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক নানান জটিলতা দেখা দিয়েছে। অবৈধ ওই সিসা কারখানার বন্ধের বিষয়ে কেউ মুখ খুলার সাহস পাচ্ছেনা। অবিলম্বে সিসা কারখানা বন্ধসহ সিসা তৈরিতে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এলাকাবাসী।
জানা যায়, সিসার কারখানা করতে হলে অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি লাগে, এয়ার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান লাগে। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া বা প্ল্যান ছাড়া কোন কারখানা চালায় তাহলে তাকে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা দুই বছর থেকে ৫ বছর কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুল হোসাইন বলেন, সিসা পুড়ানো ধোঁয়ার কারণে মানুষের থাইরয়েডের সমস্যাটা বেশি হয়, এটি শিশুদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে প্রভাব ফেলে, ফুসফুসে সমস্যা ও রক্তশূন্যতা সৃষ্টি করে, গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও ক্ষতিকর, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর শিশুদের জন্য। এ সকল কারখানায় যে সকল শ্রমিকেরা কাজ করে তাদের জীবনও মারাত্মক হুমকির মুখে থাকে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা আঞ্চলিক শাখার সদস্য সচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল বলেন, সিসা ফ্যাক্টরী পরিবেশের জন্য একটি মারাত্মক হুমকী। অভিলম্ভে অবৈধ ওই ফ্যাক্টরী বন্ধ করে দেয়া উচিত।
উপজেলা উপসহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো: মুনসুরুল হক জানান, সিসা কারখানার আশপাশের ঘাস খেলে গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগবালাইসহ মৃত্যু হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে বেশ কিছু গরু মারা গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি কারখানাটি বন্ধের বিষয়টি উর্ধ্বতণ কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে জানান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাদশা বলেন, ওই এলাকায় তার তেমন আসা যাওয়া নেই। তাই তিনি বিষয়টি জানেননা। খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুমাইয়া আক্তার বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের পরিচালক দিলরুবা ইয়াসমিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।