আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল দিগন্তবার্তা ও দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহের ভালুকার ওই বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য ব্যক্তিকে আবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২১ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে ইউএনও’র নির্দেশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ভরাডোবা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মৃত রহমত উল্যাহ মুন্সীর ছেলে আব্দুর রশিদ (৬৫) ২৮ বছর আগে এক কন্যা সন্তান আসমা আক্তারসহ স্ত্রী জোসনা আরা বেগমকে তাঁড়িয়ে দেন। পরে তিনি একই উপজেলার রাজৈ গ্রামের সৈয়দ আলীর মেয়ে নারগিস আক্তারকে বিয়ে করেন। এই ঘরেও রয়েছে, এক মেয়ে রোকসানা (২০) ও ছেলে নাঈম (৯)। সম্প্রতি রোকসানাকে বিয়ে দেয়া হয় মেদুয়ারী ইউনিয়নের হলর বাজার এলাকার আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়ার কাছে। এর আগেও ওই মেয়েকে ১২ বছর বয়সে অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিয়ে দিয়েছিলেন। পরে কিছুদিন ঘর সংসার করিয়ে ওই ব্যক্তির বহু টাকা পয়সা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে মেয়েকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এদিকে বৃদ্ধ আব্দুর রশিদ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মেয়ে জামাই বাবুলকে নিয়ে নারগিস আক্তার ফাঁদ পাতেন স্বামীর সব জমি লিখে নেয়ার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর দলিল লেখক ফিরোজ শাহীর যোগসাশজে ভরাডোবা মৌজার সিএসএসএ (আরওআর) নম্বর ২১, হাল দাগ ৪৫, বিআরএস ৩১৩ নম্বর দাগে মহাসড়ক সংলগ্ন প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ১২ শতাংশ জমির হেবা ঘোষণা দলিল সম্পাদন করেন। পরে ভালুকা সাবরেজিস্ট্রার আসমা আক্তারকে ম্যানেজ করে দলিলটি রেজিস্ট্রি (নম্বর-৭৫০৪) করে নেন।
এ বিষয়ে গত ৯ অক্টোবর দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আব্দুর রশিদের প্রথম ঘরের মেয়ে আসমা আক্তার পত্রিকার কপিসহ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলমের সহযোগীতায় শুক্রবার বিকেলে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য আব্দুর রশিদকে বদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে ভালুকা সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আব্দুর রশিদের সেবায় থাকা তার প্রথম ঘরের মেয়ে আসমা আক্তার জানান, বাবাকে উদ্ধারের সময় তার সৎ মা নারগিস আক্তার তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকী দেন এবং ঘর থেকে বের করার সময় বাঁধা দেয়া হয়। তিনি সৎ মার নির্যাতনের হাত থেকে তার বাবাকে রক্ষা ও পৈত্রিক সম্পতি উদ্ধারের দাবি জানান।
ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য আব্দুর রশিদকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নারগিস আক্তার অমানবিক ভাবে একটি ঘরে আবদ্ধ করে রাখেন। তাকে ঠিকমতো খাবারও দেয়া হতোনা। ইউএনও স্যারের নির্দেশে তাকে থানা পুলিশের সহযোগীতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) জয় সরকার জানান, বৃদ্ধ আব্দুর রশিদ শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক সমস্যাও রয়েছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ইউএনও’র নির্দেশে বৃদ্ধ আব্দুর রশিদকে বদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মোহাম্মদ আবেদুর রহমান জানান, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেয়া হলে, ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।