ভালুকার মেদুয়ারী বাঘসাতরা খালের উপর নির্মান হচ্ছে বহুতল ভবন!

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বাঘসাতরা খালটির বেশিরভাগ অংশই প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। বর্তমানে অনেক জায়গায় বাঁধসহ ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  বাঘসাতরা খালটি এক সময় নদীর মতো ছিলো। যখন গ্রামাঞ্চলে রাস্তা ঘাট কম ছিলো, তখন এই খালটি দিয়ে বড় বড় নৌকা বিভিন্ন এলাকা থেকে মালামাল আনা নেয়াসহ বেশ কয়েক গ্রামের জনসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিলো। কিন্তু কালের আবর্তে নদীটি বিলিন হয়ে সরু খালে পরিনত হয়েছে। তারপরও শেষ রক্ষা হলোনা, বর্তমানে প্রভাবশালীরা খালটির বিভিন্ন অংশ ভরাট করে গড়ে তুলছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িসহ বহুতল ভবন।
উপজেলার মেদুয়ারী বাঘসাতরা খালপাড়ের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পানি যাওয়ার জন্য খালের এক পাশে সরু কালভার্ট রেখে এপাড় ওপাড় দখল করে স্থানীয় জবান আলীর ছেলে জুয়েল মিয়া ও তার চাচা সিরাজুল ইসলাম বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এ সময় আবুল কাশেম (৭৫), আবু বকর (৬০) ও সাইমুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হয় খালটি নিয়ে। তারা জানান, প্রায় ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই খালটি এক সময় বাঘসাতরা নদী হিসেবে সকলেই জানতো এবং তা উজানের ফুবাড়িয়া উপজেলা থেকে মেদুয়ারীর উপর দিয়ে ভালুকাসদর হয়ে খিরুনদীতে গিয়ে পড়তো। এমনকি এই নদী দিয়ে এক সময় বড় বড় নৌকা বিভিন্ন এলাকা থেকে মালামাল আনা নেয়াসহ বেশ কয়েক গ্রামের জনসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র পথ হিসেবে ব্যবহার হতো। কিন্তু পর্যায়ক্রমে দখল করতে করতে বর্তমানে তা সরু খালে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ভরাট করে ফেলায় এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠায় বর্তমানে খালটির অস্তিত্ব বিলিন হওয়ার পথে। ফলে ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশনের অভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলবদ্ধতাসহ ফসলহানির সম্ভবনা দেখা দিতে পারে।
বহুতল ভবন নির্মানকারী জুয়েল মিয়া জানান, স্থানীয় খালেক মিয়ার কাছ থেকে তিনি ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভবনটি নির্মাণ করছেন। তবে পানি আসা যাওয়ার জন্য ভবনের নিচ দিয়ে কালভার্ট রেখেছেন।
এদিকে ওই খালটির ভালুকার চাপরবাড়ি, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মুচিভিটা ও কানারবাজার এলাকায় ভালুকা-গফরগাঁও সড়কের উপর সড়ক ও জনপথের ব্রিজটির নিচে ইটের ওয়াল করে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে পৌরএলাকার আশপাশ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থাণীয় লোকজনের অভিযোগ।
উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাঘসাতরা খালের উপর ভবন নির্মাণের কথা স্বীকার করে জানান, তিনি সরেজমিন গিয়ে ভবন নির্মাণ করতে দেখে কাগজপত্র চেক করে দেখেছেন, কিন্তু বাঘসাতরা খালটি বর্তমানে নক্সায় পাওয়া যায়নি।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *