ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে শিক্ষার্থী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

শেয়ার করুন :

মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ।।

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে আনন্দমোহন কলেজ শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বিশাল বিন, বিপুল বিন, রাজ বিন, হৃদয়, দেবরাজ বিন ও মুন্না বিন। তাঁদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন চর জেলখানা এলাকার বিনপাড়ায়। তারা সকলেই নগরীর বিভিন্ন স্কুলের ৭ম থেকে ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা পর্যন্ত জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠে নগরী। খুনিদের গ্রেপ্তারে শিক্ষার্থীদের দেওয়া আলটিমেটাম ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কড়া হুঁশিয়ারির মুখে শাওন হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের ১০টি পৃথক টিম একযোগে অভিযানে নামে। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন।

শনিবার বেলা ২টার দিকে আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে নিহত নুরুল্লাহ শাওনের (২৬) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কয়েক শ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শনিবার রাত ৮টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে শাওনের মরদেহ উদ্ধারের খবরে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে টাউন হল মোড়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। শাওনের জানাজায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বলেন, শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের উপদ্রব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

উল্লেখ্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাওন ও তাঁর বন্ধু রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গেলে ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় রিয়াদ প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হন শাওন। নিখোঁজের দুদিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নুল আবেদিন উদ্যানসংলগ্ন নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।
এ ঘটনায় ১৯ তারিখে ভিকটিমের মা নাহিদা আক্তার সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা দায়ের করেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং ছয়জনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি ও জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *