প্রকাশিত হয়েছেঃ আগস্ট ১১, ২০২৫ সময়ঃ ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ৪০ বছর আগে পৈত্রিক ধানি জমি বুঝে নিয়ে অদ্যবদি দখলে থাকার পরও মূল্য বেড়ে যাওয়া চালা জমির উপর নজর পড়ে প্রতিপক্ষের। এমনকি মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার বাটাজোর নতুন বাজার এলাকার জনৈক জৈনুদ্দীন সরকারের মোট জমি ছিলো ১৫ একর। তার তিন ছেলে আব্দুল জব্বার, আব্দুস সবুর ও খোরশেদ এবং ছয় মেয়ে সুফিয়া খাতুন, রুকেয়া খাতুন, শামছুন্নাহার, নুরুন্নাহার, হাজেরা খাতুন ও সাহেরা খাতুনকে তার জীবদ্দশায় ৪০ বছর আগে সমুদয় সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা ও ভোগ করার জন্য দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিলো। তৎকালিন সময়ে ধানি জমির কদর ছিলো বেশি এবং মেয়েদেরকে সর্বোচ্চ ভালো জমিগুলোই দেয়া হয়েছিলো এবং ছেলেদেরকে দেয়া হয়েছিলো চালা ও ডুবা নালার জমি। মেয়েরা অদ্যবদি তাদের পছন্দের জমিগুলো ভোগ দখলে রয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে চালা জমির দাম বেড়ে যাওয়ায়, লোভ জাগে ছেলেদেরকে দেয়া জমির উপর। এমনকি বিভিন্ন মামলা দিয়েও হয়রানী করা হচ্ছে ভাইয়ের ওয়ারিশানদেরকে।
মৃত জৈনুদ্দীন সরকারের নাতি, খোরশেদ আলমের ছেলে মিলন সরকার জানান, ৪০ বছর পূর্বে মীমাংসিত একটি বিষয়। আমার বাবা ও চাচারা জীবিত থাকা অবস্থায় তৎকালীন সময় ফুফুরা তাদের পছন্দ মতো দামি ধানি জমিগুলো নিয়েছিলেন যা অদ্যাবধি তাদের ভোগ দখলেই আছে।
উল্লেখ্য, বিআরএস রেকর্ড চলাকালিন সময়ে জয়েন উদ্দিন সরকার এর স্ত্রীর নাম বাদ পরে। পরবর্তিতে আমার দাদি তার সমুদয় জমি আমার বাবা খোরশেদ আলমের নামে (১ একর ৩৮ শতাংশ) কবলা করে দিয়ে গেছেন। তাছাড়া জব্বার, সবুর, খোরশেদসহ এদের নিজ নামীয় কবলাকৃত জমিও বিআরএস রেকর্ডে ফুফুদের নাম আমার বাবা ও চাচারা যৌথভাবে লিপিবদ্ধ করে দেন।
এদিকে জমি বিক্রি করে দেয়ার জন্য আমার ফুফুরা আমাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে যাওয়ার পরও জমি কবলা না দিয়ে নানা টালবাহানা করছেন এবং আমার নির্মান কাজে বাঁধা দেয়াসহ আমাদেরকে হয়রানী করার জন্য বর্তমানে আদালতে দুটি মামলা করেছেন। তাছাড়া প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন অনলাইনে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে আমাদের মানহানী করা হচ্ছে এবং সামাজিক ভাবে হেয় করা হচ্ছে। আমরা ওই মিথ্যা বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। এ ঘটনার সাথে আমার ছোট মামা প্রকৌশলী সোহেল রানাকেও জড়িয়ে তার মান সম্মানের হানী করেছেন।
প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, আমি ওই ঘটনার সাথে কোনো ভাবেই জড়িত নই। আমাকে অযথা ওই ঘটনার সাথে জড়িয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট লেখা লেখি করে মানহানী করা হচ্ছে।
মিলন সরকারের ফুফা প্রতিপক্ষ ইলিয়াস খান জানান, আমাদেরকে তৎকালীন সময় যে জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিলো সেই জমি আমাদের দখলে রয়েছে ঠিকই কিন্তু ওই জমি আমার স্ত্রীর ভাইদের ক্রয়কৃত জমি। ফলে আমরা ওই জমি বিক্রি করতে পারছি না।