ভালুকায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত অটোচালক শাহাদত দুই প্রতিবন্ধী ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে আছে

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকার উথুরা ইউনিয়নের কৈয়াদী গ্রামে প্রতিবেশীদের মারপিটে আহত অটোচালক শাহাদত হোসেন (৪৫) দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ্য না হওয়ায় আয় রোজগাড় বন্ধ হয়ে তার পরিবারে নেমে এসেছে চরম অভাব অনটন। মানষিক প্রতিবন্ধী দুই ভাই ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে অর্থ কষ্টে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে তার পরিবারের সদস্যরা।
৬ মার্চ বুধবার সরেজমিন কৈয়াদী গ্রামে গেলে শাহাদতের পরিবার ও উপস্থিত এলাকার লোকজন জানান, নিরিহ শাহাদত হোসেন আটোচালিয়ে রোজগাড় করে তার মানষিক প্রতিবন্ধী দুই ভাই আশারফ হোসেন (৫৫) মোশারফ হোসেন (৪৮) স্ত্রী নার্গিস (৩৮) দুই ছেলে মাসুম (২০) আকাশ (১৪) ও মেয়ে মরিয়মসহ (৬) পরিবারের ৭ জনের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে বছির মিয়া ও তার সহযোগিরা কৈয়াদী চৌরাস্তায় একটি চা দোকানের সামনে অটোচালক শাহাদত হোসেনকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। খোঁজ পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দীর্ঘ ৯ দিন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হামপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তাকে ছুটি দিলে পরিবারের লোকজন বাড়ি নিয়ে আসেন। পরিবারের লোকজনের খাবার ও অসুস্থ্য স্বামী শাহাদত হোসেনের চিকিৎসার ঔষধ কিনার টাকা যোগাতে আত্মীয়স্বজনের দ্বারস্থ হয়েছেন নার্গিস আক্তার। বর্তমানে অর্থ সংকটের কারনে সংসারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শাহাদতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার জানান, তার স্বামী অটোচালিয়ে প্রতিদিন ৫/৬ শ টাকা উপার্জন করতেন, যা দিয়ে তার প্রতিবন্ধী দুই বাসুর ও নিজের ছেলে মেয়েদের মুখে খাবার জুটতো। বছির ও তার সহযোগিরা মারপিট করে তার স্বামীকে শারিরিক ও মানষিক ভাবে পঙ্গু করে ফেলেছে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেননা। যে কারনে তাদের সংসারে আর কোন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় অভাবের তাড়নায় তারা এখন দিশেহারা হয়ে পরেছেন। তাদের শিশু কন্যা মরিয়ম প্রায় সময় না খেয়ে কষ্ট পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাননি। ওই গ্রামের নাজিম উদ্দীন (৭০) জানান, এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই এলাকার সিয়াম ও বিল্লাল হোসেন জানান, বছির মিয়া নেশা করে প্রায়ই লোকজনকে মারধোর করে। অটোচালক শাহাদতকে মারপিট করার সময় তারা বাঁধা দিলে তাদেরকেউ ধাওয়া করে। উথুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর কৈয়াদী ওয়ার্ডের মেম্বার স্বপন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ করার চেষ্টা করলে এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে জড়িত বছিরের অনুপস্থিতির কারনে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আরও জানান, শাহাদত অটোচালিয়ে তার মানষিক প্রতিবন্ধী বড় দুই ভাই ও নিজের স্ত্রী সন্তানদের খাবার যোগাতেন। বর্তমানে পরিবারটি খুবই অসহায় হয়ে পরেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী প্রতিবাদসহ সুষ্ঠ বিচার দাবী করেছেন।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *