প্রকাশিত হয়েছেঃ জানুয়ারি ৩১, ২০২৪ সময়ঃ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় সড়কের কার্পেটিং কাজে ব্যবহার হচ্ছে নিন্মমানের সামগ্রী। উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের চামিয়াদি গ্রামে নেওড়া নদীর পাড় ময়েজ উদ্দিন ফকিরের বাড়ি হতে চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কে ব্যবহৃত হচ্ছে নি¤œমানের খোয়া ও সুরকি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসীর বাঁধা নিষেধ অমান্য করে ঠিকাদার তাদের ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের আওতায় উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের চামিয়াদি গ্রামে নেওড়া নদীর পাড় ময়েজ উদ্দিন ফকিরের বাড়ি হতে চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং কাজের দরপত্র আহবান করা হয়। কাজের কার্যাদেশ পান ময়মনসিংহের জনৈক হীরা নামে এক ঠিকাদার। পরে এক কোটি ৫১ লাখ টাকার ওই কাজটি বিক্রি করে দেন ভালুকার এমরান নামে জনৈক ব্যক্তির কাছে। কাজটি কিনে গত ডিসেম্বরে কাজ শুরু করেন এবং প্রায় দুই মাস ধরে ওই সড়কে কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরুতেই ঠিকাদার সড়কটিতে নি¤œমানের কাঁচা ও কালো ঝামা জাতীয় ইটের মিশ্রণে সুরকি ব্যবহার শুরু করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার লোকজন বার বার বাঁধা ও প্রতিবাদ করার পরও এসবের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার নি¤œমানের সুরকি (খোয়া) দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত রোববার (২৮ জানুয়ারী) দুপুরে সরেজমিন গেলে চামিয়াদী বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাস্তার কাজে ব্যবহৃত দুই টুকরা মাটি এই প্রতিনিধির সামনে রেখে বলেন, রাস্তার কাজে এসব মাটির টুকরা ব্যবহার করা হচ্ছে। বার বার প্রতিবাদ করা সত্বেও কোন ফল হচ্ছেনা। রাস্তার পাশের এক বাড়ির মালিক বাবর আলী জানান, নিন্মমানের ইটের সুরকি ব্যবহারে বার বার বাঁধার পর দু’এক ট্রাক সড়িয়ে নিলেও বেশিরভাগ সুরকিই (খোয়া) নিন্মমানের ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার কার্পেটিং কাজে এমন নি¤œমানের খোয়া ব্যবহারের কারনে ভারী যানবাহন চলাচল ও বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাস্তাটি পথচারী ও যানবাহন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে।
লেবার সর্দার মজিবর রহমান মজি জানান, প্রিকেট খোয়ার সাথে নরম খোয়া না দিলে ফিনিশিং জমবেনা, সেজন্য কার্পেটিংয়ের আগে মিকচার খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে ঠিকাদার এমরানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, একদিন আগে উপজেলা প্রকৌশলী কাজের মান পরিদর্শণ করে গেছেন। ফিনিশিংয়ের জন্য তারা মিকচার খোয়া ব্যবহার করছেন এতে রাস্তার কোন ক্ষতি হবেনা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, নিন্মানের ইটের খোয়া ব্যবহারে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু ঠিকাদার কথা না শুনায় কাজ না করার জন্য বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো: মাহফুজুর রহমান জানান, কাজটির দরপত্র আহবান করা হয়, জেলা এলজিইডি অফিস থেকে। তাকে শুধু দেখাশুনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নিন্মমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি তিনি সরেজমিন গিয়ে প্রমাণ পেয়েছেন এবং ঠিকাদারকে ওইসকল খোয়া সড়িয়ে সিডিউল অনুযায়ী খোয়া ব্যবহার করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। তারপরও যদি ঠিকাদার কোন অনিয়ম করে থাকেন, তবে তাকে কাজের বিল পরিশোধ করা হবেনা।

