গফরগাঁওয়ে ডা. হারুনকে কুপিয়ে হত্যা ঘটনায় মামলা, ঘাতক গ্রেফতার 

শেয়ার করুন :

রফিকুল ইসলাম খান, গফরগাঁও প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চাঞ্চল্যকর পাইথল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোমিও চিকিৎসক হারুন অর রশিদকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে ।
নিহতের ছেলে ফেরদৌস আহাম্মেদ দিপ্ত বাদী হয়ে সোমবার (১৫ জানুয়ারি) রাতেই সন্ত্রাসী রুবেলকে আসামী করে পাগলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া মামলায় আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। এদিকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ হেফাজতে থাকা রুবেলকে (৩৫) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মামলার বাদী নিহতের ছেলে ফেরদৌস আহাম্মেদ দিপ্ত জানান, আমার বাবাকে সন্ত্রাসী রুবেল কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে গয়েশপুর বাজারে রামদা নিয়ে উল্লাস করেছে। আমি হত্যাকারী রুবেলের ফাঁসি চাই।
পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খায়রুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের ছেলে দিপ্ত বাদী হয়ে রোবেলের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতার পিটুনিতে গুরুতর জখম হন ঘাতক রুবেল ও তার মা বিউটি আক্তার। পুলিশ হেফাজতে থাকা আহত রুবেলকে ঢাকার আগারগাঁও নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে তবে নিহত হারুন অর রশিদ এর সাথে রুবেলের নারী ঘটিত বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে একই ইউনিয়নের গোয়ালবর গ্রামের নিয়ে আসার পর শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করে। বাদ এশা নিজ বাড়িতে নিহত হারুন অর রশিদের নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গয়েশপুর বাজারসহ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রকাশ্যে দিবালোকে উপজেলার গয়েশপুর বাজারের পরিত্যক্ত সনি সিনেমা হলে সামনে হারুন অর রশিদকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসী রুবেল। পরে বিক্ষুদ্ধ জনতার উত্তেজিত হয়ে ঘাতক সন্ত্রাসী রুবেলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এবং বাড়ি থেকে রুবেলকে ধরে জনতা বেধড়ক পিটুনির সময় মা বিউটি আক্তার (৪৮) এগিয়ে আসলে জনতা তাকেও পিটুনী দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এবং রুবেলকে পুলিশ হেফাজতে নেন। এসময় তিনজন পুলিশ আহত হন। নিহত হারুন অর রশিদ একই ইউনিয়নের গোয়ালবর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে। এবং ঘাতক রুবেল একই ইউনিয়নের নেওকা গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ শাহাব উদ্দিনের ছেলে। তবে উভয়ই গয়েশপুর বাজারে পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করতেন।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *