ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের উত্তোলিত বালু লুটে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল

শেয়ার করুন :

মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহের বুক চিরে বয়ে যাওয়া এক সময়ের যৌবনা ব্রহ্মপুত্র নদ এখন মৃত প্রায়। আর এ মৃত খরস্রোত হীন ব্রহ্মপুত্র নদের যৌবন ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র নদ খননে উত্তোলিত হচ্ছে অসংখ্য বালু। আর উত্তোলিত এ বালু নদীর তীরে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এ স্তুপকৃত বালু  একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে লুটে নিয়ে অবৈধভাবে বিক্রয় করছে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বোররচর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ডিগ্রি পাড়া ও কুষ্টিয়ায় পাড়া এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। কুষ্টিয়ায় পাড়া ও ডিগ্রি পাড়া এলাকাটি ময়মনসিংহ শহর থেকে বেশ দূরে ও দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ার কারণে প্রশাসনের খুব একটা তদারকি না থাকায় এই সুযোগে একটি প্রভাবশালী মহল, বালুখেকো চক্র, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ে অবৈধভাবে লুটে নিচ্ছে এসব বালু।

ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার ৭৬৩ দশমিক ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শুরু হয় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্প। ২০২৪ সালের ৩০ জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনাসহ নানা কারণে এ প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছরের বেশি বাড়ানো হয়। ফলে ২০২৭ সাল নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। নীতিমালা অনুযায়ী ড্রেজিংয়ে উত্তোলিত বালু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ভরাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়ি করার জন্য বিনামূল্যে দেওয়ার কথা। অবশিষ্ট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা হবে।

সম্প্রতি সদর উপজেলার বোররচর ইউনিয়নের কুষ্টিয়া পাড়া ও ডিগ্রি পাড়া এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি উত্তোলিত বালুর স্তূপ করে জরিপ চালায় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরবর্তীতে এসব বালু বিক্রির জন্য নিলাম কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তার আগেই স্তূপ করে রাখা বালু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতে আঁধারে এমনকি দিনের বেলাতেও চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্তূপ করা বালু দুইটি ভেকু মেশিন দিয়ে তুলে লড়ি ও হ্যান্ড ট্রলিতে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। গত এক মাস ধরে এ কর্মকাণ্ড চলছে। তবে গত কয়েকদিনে চুরির পরিমাণ বেড়েছে। আর এসব বালু ভর্তি বাহনগুলো ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় ভূমি অফিসের সামনে দিয়ে বিনা বাঁধায় নিয়ে যাচ্ছে বালুখেকো চক্র। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের লোকজন এলে দুয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয় বালু চুরি ও বিক্রি।

এদিকে, যেসব কৃষকের জমির উপর নদ থেকে উত্তোলিত বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে সে সকল জমিতে কোন ফসল আবাদ করতে পারেনি তারা। ফলে সফল চাষাবাদ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। এমনকি সেসব কৃষকেরা পায়নি কোনো ক্ষতিপূরণ।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্তূপ করা বালু বিক্রির জন্য নিলাম কমিটি করা হয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে নিলামের জন্য দরপত্র আহবানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বালু বিক্রির বিষয়ে মাঝে মধ্যেই আমরা অভিযোগ পাই। অভিযানও পরিচালনা করা হয়। ওই এলাকা উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে একটু দূরে হওয়ায় কেউ কেউ বালু চুরির সুযোগ নিচ্ছে। তবে যারা বালু চুরি করে বিক্রি করছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *