বান্দরবানে অবৈধ বার্মিজ গরুর খামারের অনুমোদন দিল ভেটেরিনারি বিভাগ।

শেয়ার করুন :

মোঃ সিরাজুল মনির বিশেষ প্রতিনিধি।।

বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্ত পথে আসা অবৈধ বার্মিজ গরু মজুদের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে সীমান্তবর্তী খামারগুলো। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কৌশল পাল্টেছে চোরাকারবারিরা। এবার তারা ভেটেরিনারি বিভাগ থেকে বৈধতা নিয়ে খামার গড়ে তুলছে। যেখানে অবৈধ বার্মিজ গরু এনে বৈধ করা হচ্ছে প্রতিদিন।

চলতি অর্থবছর বান্দরবানে তিন ক্যাটাগরিতে অন্তত ৩১টি গবাদি পশুর খামারের অনুমোদন দিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বার্মিজ গরু পাচারের নিরাপদ এলাকাগুলোতে তড়িঘড়ি করে এসব খামারের জন্য সুপারিশ করেছে উপজেলা ভেটেরিনারি দপ্তরগুলো। তবে ‘তড়িঘড়ি করে খামার অনুমোদন’ এর বিষয়টি অস্বীকার করে বান্দরবান জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা পলাশ কান্তি চাকমা বলেন, দুধ, ডিম, মাংসের চাহিদা পূরণের জন্য নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় খামার অনুমোদন দেওয়া হয়। খামারে অবৈধ কোনো কাজ করলে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া খামারগুলোর মধ্যে অধিকাংশই নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম উপজেলায়। চলতি মাসে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় গরু মোটাতাজাকরণ ও হৃষ্টপুষ্ট খামারের অনুমোদন নিয়েছেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম। মেসার্স আলম গবাদিপশু খামার নামে তিনি উত্তর বাইশারী এলাকায় খামারটি করেছেন।

ভ্যাটেরিনারি বিভাগে দেয়া তথ্যমতে, তার খামারে ১৪০টি দেশীয় গবাদিপশু রয়েছে। এছাড়া করলিয়ামুরা এলাকায় মেসার্স আবুল কালাম ফার্মের অনুমতি নিয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আবুল কালাম। তার খামারে ১২৮টি গরু থাকার তথ্য দিয়েছেন। কাগজিখোলা এলাকায় মেসার্স সুলতান গবাদিপশু খামার অনুমোদন নিয়েছেন মো. ইব্রাহিম। তার খামারে ৫০টি এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকার মৌজা হেডম্যান মংওয়াইন মারমা মেসার্স প্যারেন্ট ফার্ম নামে অনুমোদন নিয়েছেন। বর্তমানে তার খামারে ৫০টি গবাদি পশুর রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন।

এদিকে নতুন গড়ে ওঠা খামারের বিষয়ে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সাদেক হোসেন ও আবু তাহের এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের এলাকায় খামারগুলোতে ৮–১০টির মতো গরু রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমার থেকে আনা চোরাই গরু মজুদের জন্য মূলত খামারগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে খামারগুলোতে বার্মিজ গরু আনা–নেওয়া হয়। দিনের বেলায় এক রকম গরু দেখা গেলেও পরের দিন তা দেখা যায় না।

নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম দুই উপজেলার সীমান্ত দিয়ে গত তিন মাসের অধিক সময় ধরে মিয়ানমার থেকে অবৈধ বার্মিজ গরু পাচার বেড়েছে। গরুর আড়ালে একটি সিন্ডিকেট মাদকও নিয়ে আসছে। বিশেষ করে আলীকদম–দোছড়ি–বাইশারী এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আশারতলী–কম্বনিয়া–ফুলতলী, জারুলিয়াছড়ি সীমান্তে প্রতিদিন বার্মিজ গরুর সঙ্গে পাচার হচ্ছে মাদক। সম্প্রতি আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তা স্বীকার করেন বিজিবির কর্মকর্তারা।

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী, আশারতলী, কম্বনিয়া ও আলীকদম সদরে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, কিছু জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কাছের মানুষজন হঠাৎ করেই খামার গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা জানান, চোরাকারবারিরা মিয়ানমার থেকে আনা চোরাই গরু পাহাড়ে এবং খামারে মজুদ করে। পরবর্তীতে বাজার ইজারাদার থেকে রশিদ সংগ্রহ করে খামারীর গরু পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে। সচেতন মহলের মতে, আপাত দৃষ্টিতে গরু ব্যবসায় স্থানীয় এক শ্রেণি উপকৃত হলেও বিপরীতে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে গরু ব্যবসার আড়ালে মাদকের চালানও ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *