ভালুকায় চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় অটোরিক্সা চুরির অপবাদে নুরুজ্জামান (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধলিয়া দেয়ালিয়াপাড়ায়। এ ঘটনায় মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বহুলী গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে জামাই নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বটপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নুরুজ্জামান ৭/৮ বছর ধরে ঘরজামাই হিসেবে শ^শুর বাড়িতে বসবাস করে দিনমজুরীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। গত ২২ জুলাই সকালে পাশের বহুলী দেয়ালিয়াপাড়ার জামাল উদ্দিন ঘরজামাই নুরুজ্জামানকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে দেয়ারিয়া পাড়ার ধনুমিয়া, বদি মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম ও মজিবর রহমান শাহিন মিয়ার সহযোগীতায় ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। খোঁজ পেয়ে বাড়ির লোকজন আহত নুরুজ্জামানকে উদ্ধার করে ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নুরুজ্জামানের শ^াশুরী শাহনাজ বেগম জানান, তার মেয়ে জামাই নুরুজ্জামানকে দেয়ালিয়াপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে জামাল উদ্দিন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে অটোরিক্সা চুরির মিথ্যে অপবাদ দিয়ে জামাল উদ্দিনসহ কিছু লোক দেয়ালিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে আকাশমনি গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করেন। সংবাদ পেয়ে মেয়ে জামাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় নির্যাতনকারীরা সাদা কাগজে তাদের স্বাক্ষর রাখে বলে জানান। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজিম উদ্দিন জানান, ঘটনাটি ওইদিন সকালের, কিন্তু তিনি মোবাইলে সংবাদ পেয়ে বিকেলে ওইখানে যান এবং ওসির সাথে কথা বলে দুই পক্ষকে থানায় যেতে বলেন। গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি তিনি ফেসবুকে ছবি দেখে জানতে পারেন।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার নুরুজ্জামানের শ্বা  শুরী শাহনাজ বেগম বাদি হয়ে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন, ধনুমিয়া, বদি মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, মজিবর রহমান ও শাহিন মিয়াসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে বিবাদি করে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তিনি মঙ্গলবার রাতে শুনেছেন। কিন্তু থানায় কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *