ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক মাদরাসাছাত্রকে মারধর এবং তার কাছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরের মা মোছা. ফরিদা খাতুন (৪৫)।
অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার হাজিরবাজার এলাকার কিতাব আলী মসজিদসংলগ্ন একটি হাফিজিয়া মাদরাসায় অভিযুক্তরা মাদরাসা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগকারীর ছেলে মো. ফরহাদ (১৮) প্রায় দেড় বছর আগে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া (হেফজ) শেষ করে বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তার ছেলেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট সকালে হাফেজ ফরহাদ বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে ওই মাদরাসার সামনে গেলে অভিযুক্তরা তাকে চুরির অপবাদ দেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং তার কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
ফরিদা খাতুনের অভিযোগ, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা তার ছেলেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি রাস্তাঘাটে একা পেলে ফের মারধর ও জখম করার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আবেদন করেছেন ফরিদা খাতুন। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে মো. আনামুল হক (৪০) ও মো. বিপল (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আহমেদ বিপল মারধরের কথা অস্বীকার করে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফরহাদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন বসে চুরে যাওয়া ৬ আনা ওজনের কানের দুল ও ৭ হাজার টাকা দেয়ার জন্য ফরহাদের অভিভাবককে বলা হয়েছে।
মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মো: এনামুল হক জানান, ফরহাদ আমার ছাত্র ছিলো এবং দেড় বছর পূর্বে হেফজ শেষ করে চলে গেছে। আগে থেকেই ঘরের টুকটাক জিনিস সবার অগোচরে নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস ছিলো তার। চার বছর আগে ঘর থেকে কিছু টাকা ও গহনা চুরি হয়, যা সিসিটিভি ফুটজে অনেকটাই ফরহাদকে সন্দেহাতিত ভাবে প্রমানিত হয় এমনকি সে এসব নেয়ার কথা স্বিকারও করেছে। মারধরের কথা অস্বিকার করে তিনি আরো জানান, স্থানীয়ভাবে এক সালিশে চুরি করে নেয়া জিনিস ফেরত দেয়ার কথা হলেও পরবর্তিতে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে। আমিও থানায় অভিযোগ করেছি।
ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছে, তবে কোন ফয়সালা না হওয়ায় দুই পক্ষকে থানায় আসার জন্য বলা হয়েছে।