প্রকাশিত হয়েছেঃ জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ সময়ঃ ৭:০২ অপরাহ্ণ
মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ।।
সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতোদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের মতো না হয়। মনে রাখবেন, গণভোটের জয়ের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব। আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছরেও আমরা তা অর্জন করতে পারি নি। সময় এসেছে গণভোটে রায়ের মাধ্যমে জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মানের। গণভোটের লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নগরীর টাউনহল এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদের উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীতুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সময়ে সংবিধান সংশোধন এক ধরনের ছেলেখেলায় পরিণত হয়েছিল। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বিরোধী দল অংশগ্রহণ করে নাই, অধিকাংশের মতামত ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংস্কার। কিন্তু মাত্র চার মিনিটের এক বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সেই সংস্কারের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট পায় নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ যে দল মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারে নি, তারও ৫ জন প্রতিনিধিত্ব থাকবে সংসদের উচ্চকক্ষে। আর সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে (কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন)।
রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে। আবার সেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও হয় পরোক্ষভাবে। তাই সেখানে সরকার মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও কার্যাবলী নিরূপনে সংবিধান সংস্কারে জরুরি।
সংবিধানের ৭০নং অনুচ্ছেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ হলো নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে প্রার্থীতা বাতিল, যা এমপিদের মুখে স্কচটেপ এটে দেওয়ার মতো। সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অনুগত থাকবে, অন্য কোনো বিষয়ে স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারবেন।
সরকারি কর্মচারীরা গণভোটের প্রচারণা করতে পারেন কিনা এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারি কর্মচারীরা গণভোটের প্রচারণা করতে পারেন। এতে সংবিধান, সংস্কার কমিটি, অধ্যাদেশ বা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী আইনগত কোনো বাধা নেই। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোতে গণভোটের প্রচারণায় পজিটিভ দিকে প্রচারণা চালানো হয়েছে যেমন ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া (ব্রেক্সিট)।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ.কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আতাউল কিবরিয়া। উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি।
এছাড়াও ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি এবং বাকৃবির ভাইস চান্সেলর বক্তৃতা করেন। সভায় বিভাগীয় দপ্তরের দপ্তরপ্রধানগণ, চার জেলার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

