প্রকাশিত হয়েছেঃ আগস্ট ২৯, ২০২৫ সময়ঃ ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম খান, গফরগাঁও প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চার বছরের শিশু আইমান সাদাবকে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সড়কে অবস্থান ও ট্রেন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শিশুর স্বজনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) দুপুরে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলায় পাঁচবাগ ইউনিয়নের দিঘীরপাড় এলাকায় নিহত শিশু সাদাবের হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় দিকে গফরগাঁও মিনি স্টেডিয়াম মাঠ থেকে শিশুর স্বজনসহ শাঁখচূড়া উচ্চ বিদ্যালয়, তেতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামিয়া সরকারি হাইস্কুল, সরকারী কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামতলা মোড় সড়কে বসে অবস্থান কর্মসূচি নেয়। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল সহকারে গফরগাঁও রেলওয়ে ষ্টেশনে পৌঁছা মাত্রই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভুয়াপুরগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে রেলওয়ে ষ্টেশনে প্রবেশকালে ট্রেনটি অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় শত শত শিক্ষার্থী ট্রেনে ইঞ্জিনের সামনে দাঁড়িয়ে ও রেল লাইনে বসে ট্রেন অবরোধ করে রাখে এবং শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলে পুরো ষ্টেশন এলাকায়। প্রায় আড়াই ঘন্টা অবরোধ চলাকালে জামালপুর এক্সপ্রেসে হাজার হাজার ট্রেন যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অপদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস মশাখালী রেলওয়ে ষ্টেশন এবং ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা বলাকা ট্রেনটি বালিপাড়া রেল স্টেশন আটকে পড়ে। এসব ট্রেন যাত্রীরাও দুর্ভোগে শিকার হন।
ট্রেন অবরোধ চলাকালে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বক্তব্য রাখেন, নিহত সাদাবের নানা সুলতান আহাম্মদ, মা সুমাইয়া আক্তার, শিক্ষার্থী নেওয়াজ আলী, শামীমা আক্তার, আব্দুল্লাহ আল সামি, সিয়াম আহাম্মেদ, ইমরুল রিয়াদ ও সুচনা প্রমূখ।
নিহত শিশু সাদাবের মা সুমাইয়া আক্তার কান্না জড়িতকণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র নিষ্পাপ ছেলে কি অন্যায় করেছে। আমি আমার একমাত্র ছেলে সাদাব এর খুনীদের ফাঁসি চাই। এ ব্যাপারে থানা পুলিশের নিরব ভূৃমিকা বলে অভিযোগ তুলেন তিনি।
দুপুর আড়াইটা পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, গফরগাঁও সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ সরকার, গফরগাঁও থানার ওসি বাচ্চু মিয়া, পাগলা থানার ওসি ফেরদৌস আলম, গফরগাঁও রেলওয়ে ইনচার্জ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অবরোধকারী
শিক্ষার্থীসহ নিহত শিশুর স্বজনদের সাথে কথা বলেন এবং শিশু সাদাব হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার ও শাস্তিমূলক বিচারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে রেল লাইন থেকে সরে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অবরোধকারী শিক্ষার্থী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে নিহত শিশু হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
গফরগাঁও রেলওয়ে ষ্টেশনে সহকারী ষ্টেশন মাষ্টার মোস্তফা কামাল বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা রেল লাইন থেকে অবরোধ উঠিয়ে নেয়। এরপর বিকাল ৩ টা ৫ মিনিটে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ময়মনসিংহ উদ্দেশ্যে গফরগাঁও ষ্টেশন ছেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই দুপুরে গফরগাঁও উপজেলায় পাগলা থানাধীন দিঘীরপাড় এলাকার বাড়ির সামনে থেকে সাদাব অপহরণ হয়। চার দিন পর ১৫ জুলাই সকালে বাড়ির পিছনে জঙ্গলের সাইডে পুকুর পাড়ে শিশু সাদাবের দ্বি-খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাদাবের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারগুড়িয়া গ্রামে। বাবা বিদেশে থাকায় মায়ের সঙ্গে সে নানাবাড়িতে বসবাস করতো।
###