প্রকাশিত হয়েছেঃ মার্চ ৬, ২০২৪ সময়ঃ ২:২৮ অপরাহ্ণ

Spread the love
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় তিনটি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলোর বেহলদশা। আশ্রয়ন প্রকল্পের ব্যারাকের ঘর নির্মাণ হওয়ার পর অদ্যাবধি পূনঃনির্মাণ বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বর্তমানে ব্যারাকের সবগুলো ঘরের টিনের চালা ভেঙ্গে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরগুলোতে পানি পড়ে একাকার হয়ে যায়। এদিকে হাতিবেড় আশ্রয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিনা অনুমোতিতে অর্ধশতাধিক ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সি ৫০ টিরও বেশি আকাশমনি ও মেহগনি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমুল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠার পূর্নবাসনের জন্য ১৯৯৯ সালে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের হাতিবেড়, বনগাঁও ও ধলিকুড়ি মৌজায় ৪২.৩৭ একর জমির উপর ২২টি ব্যারাকে ২২০ টি ঘর সরকারী ভাবে নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাতিবেড় আশ্রয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি জসিম উদ্দিন নিজের নামে জমি থাকলেও তথ্য গোপন করে আশ্রয়ন প্রকল্পের ব্যারাকে নিজের নামে ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের লোকজনকে অবগত না করে বিনা টেন্ডারে হাতিবেড় আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল গত এক মাসে ওই প্রকল্পের আওতাধিন তিনটি ভিটা থেকে ২২/২৫বছর বয়সি অর্ধশতাধিক বড় বড় আকাশমনি ও মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়াও তারা আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতাধিন পুকুরের মাছ ইচ্ছেমতো ধরে বিক্রি করে দেয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে হাতিবেড় আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঘরগুলোর অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ ঘরের আড়ার কাঠ, টিনের চালা ও বেড়া ভেঙ্গে গেছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। ব্যারাকের ঘরগুলোর অবস্থা বেহাল থাকায় যারা একটু সাবলম্বি তারা নিজ নিজ খরচে থাকার ঘর নির্মাণ করে নিচ্ছেন। বর্তমানে ব্যারাক ১৪০টি ঘরের মাঝে ৩০/৩৫ পরিবার অবস্থান করছেন। বাকিরা ব্যারাক ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন, কেউ সরকারের দেয়া ঋণের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। বরাদ্দপ্রাপ্ত ছাড়াও পরিত্যক্ত ঘরে অনেকেই অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। ১৯৯৯ সালে আশ্রয়ন প্রকল্পটি চালু হওয়ার সময় পরিবারের স্বামী ও স্ত্রীর নামে ৮শতাংশ করে জমির দলিল করে দেয়া হয়। বিগত ২৫ বছরে সেই দলিল সুবিধাভোগিরা অনেকেই পাননি। জমি পাওয়ার লোভে সেই সময় অনেকেই আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ নেন। কিছু দিন থাকার পর তারা ব্যারাক ছেড়ে চলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো গড়ে উঠার সময়ে আকাশমনি, মেহগনি, নারিকেল, চালতা ও আমলকিসহ বিভিন্ন প্রজাতীয় প্রায় ৮ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছিলো। গত এক মাস ধরে ওই প্রকল্পের ৬ নম্বর ব্যারাকের বাসিন্দা আশ্রয়ণ সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল ব্যারাকের কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সি প্রায় অর্ধশতাধিক আকাশমনি ও মেহগনি গাছ কেটে ফেলেন। পাশের শাহাব উদ্দিনের অবৈধ করাতকলে গিয়ে দেখা গেছে, স্তুপিকৃতভাবে বহু গাছের গোলা রাখা হয়েছে। পাশে রয়েছে, বেশ কিছু গজারী গাছের বড় বড় টুকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার বাশিল গ্রামে এবং ওইখানে তার বেশ জমিজমাও রয়েছে। তথ্য গোপন করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখলসহ সমিতির সভাপতি হয়ে গাছপালা বিক্রিসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করে চলেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব আশ্রয়ন প্রকল্পে ব্যাপারে হালনাগাদ পর্যন্ত কোনো তথ্য সরকারী দপ্তরে নেই। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে অশ্রয়ন প্রকল্প ৩ টির তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেননি। সরকারী অফিসের ২০১৮ সালের প্রাপ্ত হিসেব অনুযায়ী জানা যায়, তিনটি আশ্রয়ন প্রকল্পে ব্যারাক ২২টি, ঘর ২২০টি, খালি ৭৬টি  জরাজীর্ণ  ১৫৫টি, নলকূপ ২২টি, সচল ১০টি, নষ্ট ১০টি, টয়লেট ১১০টি, সচল ৭টি ও নষ্ট ১০৩টি। হাতিবেড় আশ্রয়ন প্রকল্পে খালি ঘর রয়েছে ৭৬টি, জরাজীর্ণ ১৫৫টি ঘর।
হতিবেড় আশ্রয়ন প্রকল্পের আরেক সুবিধাভোগি হাওয়া বেগম জানান, তার স্বামী আব্দুল মালেক দিন রাত বাইরে পড়ে থাকেন। তিনি সংসারের তেমন কোনো খোঁজখবর নেন না। ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে কাঠ কাবারি নষ্ট হয়ে গেছে। টয়েলেটের বেড়া পর্যন্ত নেই। পলিথিন দিয়ে বেড়া দিয়ে ব্যবহার করছেন। কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছে, ঘর ও টয়লেট মেরামত করার জন্য।
হতিবেড় আশ্রয়ন প্রকল্পের ৭ নম্বর ব্যারাকের সুবিধাভোগি মোঃ ফারুক মিয়া ওরফে কর্ণেল জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও সম্পাদক মিলেই গাছগুলো বিক্রি করেছেন।
আশ্রয়ণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল জানান, গাছ বিক্রি বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। ওইগুলো বসবাসরত পরিবারের সদস্যরাই বিক্রি করে ঘরের মেরামতের কাজ করেছেন।
হাতিবেড় আশ্রয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি জসিম উদ্দিন ৫০টি গাছ কেটে বিক্রির কথা স্বীকার করে জানান, বসবাসের অযোগ্য ঘরগুলো গাছ বিক্রির টাকার দিয়ে মেরামত করা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গাছ কাটার ব্যাপারে ইউএনও স্যারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা ঃ নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ জানান, তার অফিসে আশ্রয়ন প্রকল্পের কোনো তথ্য নেই। তাছাড়া ওইসব প্রকল্পগুলো চালু হওয়ার পর সংস্কারের জন্য সরকারী ভাবে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অপরূপা মালাকার জানান, ভালুকায় যোগদান করার পর থেকে এখনো পর্যন্ত আশ্রয়ন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। সুবিধাভোগিদের মাঝে প্রথম পর্যায়ে চার লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছিলো। সেই ঋণের টাকা উত্তোলন করে পূনঃরায় সুবিধা ভোগিদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীনূর খান জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যাপারে তেমন অবগত নন।  বনবিভাগের সাথে কথা বলে তিনি এ বিষয়ে জানাতে পারবেন।

প্রকাশক ও সম্পাদক

আসাদুজ্জামান (ফজলু)

হাউজ নং: ২০, ফ্ল্যাট নং: বি২, রোড নং: ০৭

সেকশন: ১২, উত্তরা, ঢাকা – ১২৩০

মোবাইল: ০১৭১৮-১৯২৬৮৫, ০১৭৬১-৫৮২৩৩৮

ইমেইল: contact@digontabarta.com