প্রকাশিত হয়েছেঃ জানুয়ারি ১৭, ২০২৪ সময়ঃ ৮:৩২ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এসকিউ গ্রুপের বিরিকিনা ও সেলসিয়াস (পোষাক) সেকশনে ৪৪ শ্রমিক অসুস্থ ও এক কর্মকর্তাসহ তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় কারখানা ও আশপাশের এলাকায় আতংক জড়িয়ে পড়েছে। এদিকে বুধবার (১৭ জানুয়ারী) সকালে ঢাকা বিজিএমই এর একটি প্রতিনিধিদল কারখানাটি পরিদর্শন করে গেছেন। শ্রমিক অসুস্থ ও মৃত্যু ঘটনায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শাখার ময়মনসিংহ শ্রম পরিদর্শকের নির্দেশে তিনটি সেকশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় অবস্থিত এসকিউ গ্রæপের ভেতরে পৃথক পৃথক চারটি সেকশন রয়েছে। কারখানার সেকশনগুলোর মাঝে রয়েছে সেলসিয়াস, ফিউস, বিরকিনা-১ ও বিরকিনা-২। কারখানা গুলোতে ডাইং, গার্মেন্ট, সুইংয়ের কাজ করে। ৪টি কারখানায় ১০ হাজারের অধিক নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। এদের মাঝে ৮০ শতাংতই নারী শ্রমিক। বিরকিনা-২ গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারী) কারখানার কর্মকর্তা রিফাত হাসান (৩০) ও বুধবার (১০ জানুয়ারী) নারগিস আক্তার (৪৫) নামের শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। এ সময় ৩৪ শ্রমিক অসুস্থ হন। কারখানাটি দ্ইু দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার পূনরায় মিলটি চালু করলে সেলসিয়াস ইউনিটের ষষ্ঠতলায় ১২ শ্রমিক অসুস্থ ও শিউলী আক্তার (৩৬) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এভাবে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় মিলের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটির সদস্যগণ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (১৭ জানুয়ারী) ঢাকা বিজিএমই এর একটি প্রতিনিধদল কারখানাটি পরিদর্শন করেন। তবে কারখানার ভেতর রহস্যজনক কারণে কোন ধরণের মিডিয়াকর্মীদের প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বুধবার দুপুরে ভালুকা ও ময়মনসিংহের একদল মিডিয়াকর্মী কারখানার মূলফটকে দেড় ঘন্টা অবস্থান করার পরও ভেতরে ডুকার অনুমোধন মেলেনি। এদিকে ওই কারখানায় অসুস্থ হয়ে নিহত নারগিস আক্তার ও রিফাদ হাসানের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়ায় তাদের পরিবারের কাছে মিল কর্তৃপক্ষ হস্তান্তর করলেও শিউলী আক্তারের লাশ ময়মনসিংহ জেলা প্রাশসকের নির্দেশে ময়নাতদন্ত করানো হয়। ময়না তদন্ত শেষে বুধবার (১৭ জানুয়ারী) শিউলীর লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়া একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার সর্তে জানান, কারখানার ভেতরে অবস্থিত বর্জ্য শোধন যন্ত্র (ইটিপি প্লান্ট) থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারেন।
এসকিউ কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম অ্যাডমিন) (অব:) মেজর সাব্বির জানান, শ্রমিক অসুস্থ ও মারা যাওয়ার ঘটনায় কারখানাটি সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া কারখানার উদ্যোগে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এনে ঘটনার রহস্য উৎঘাটনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ শিল্পপুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মিজানুর রহমান জানান, সকালে এসকিউ গ্রæপের কালার মাষ্টার কারখানায় শ্রমকি অসুস্থ্য হওয়ার ঘটনায় এএসপি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা যাচ্ছেনা।
ময়মনসিংহ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শাখার শ্রম পরিদর্শক মোহাম্মদ মোকছেদুল হাসান জানান, এসকিউ কারখানায় পর পার তিনদিনে তিনজন শ্রমিক মারা যাওয়া ও প্রায় অর্ধশত অসুস্থ হওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ৬১ এর উপধারা ২ এর ক্ষমতা বলে কারখানার তিনটি সেকশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারখানার ভবণগুলোর ব্যবহার ও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখারও বলা হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী জানান, কারখানায় শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি দু’একদিনের ভেতর রিপোর্ট প্রদান করবেন। তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ কি কারণে তাদের অসুস্থ রোগীদের গাজীপুরের মাওনায় অবস্থিত বেসরকারী আলহেরা হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা হয়েচ্ছ এবং আলহেরা হাসপাতালটি তদন্ত কমিটির নজরে রয়েছে। তাছাড়া কারখানার ইটিপি প্ল্যান্ট থেকে নির্গত কার্বনমনোক্সাইড গ্যাস থেকে এ সময়স্যা হচ্ছে কিনা, এ ব্যাপারেও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

