প্রকাশিত হয়েছেঃ জানুয়ারি ১৬, ২০২৪ সময়ঃ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শিল্পাঞ্চল ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা অংশে ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ত্রিহুইলারসহ অবৈধ যানবাহন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নাকের ঢগায় অদক্ষ চালকের মাধ্যমে হরদম চলাচলরত এসব যানবাহনের প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। জেলায় প্রতিবছর যতগুলো সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে, তার মধ্যে মহাসড়কের ভালুকা অংশেই বেশি ঘটছে।
মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ও শিল্পাঞ্চল হবিরবাড়ির মাষ্টারবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক বাস, ট্রাক, মিনিবাস, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস চলাচল করছে। এদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে বিভিন্ন ধরনের তিন চাক্কার ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা, নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ আরো অনেক গাড়ি চলছে। এসব যানবাহন শুধু পৌরসভাধিন সড়কে চলাচল করেই থামছে না, অনেক সময় দূরপাল্লার যাত্রীও বহন করছে। আবার সড়কে দাঁড়িয়েই ট্রাফিক, হাইওয়ে ও থানা পুলিশের সামনেই উল্টোপথে চালচল করে যাত্রী উঠানামা করছে অনেকে। কোনো ধরনের বাঁধা ছাড়াই চলছে এসব যানবাহন। এতে মহাসড়কে প্রচন্ড যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে। একদিকে মহাসড়কের দুইপাশে অবৈধ দোকানপাট অপরদিকে অবৈধ যানবাহন চলাচলে মহাসড়কে যানযটের কারণে সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তাছাড়া এসব অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দেখা দিচ্ছে দুর্ঘটনা। এতে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে দৈনিকসহ দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাসোহারা দিয়েই এসব যানবাহন চলাচল করছে। তাছাড়া প্রাকাশ্যে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরণের যানবাহন থেকে রেকার বিলের নামে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভালুকা পৌরএলাকা, শিল্পএলাকা হবিরবাড়ি ও মাষ্টারবাড়ি এলাকায় বেশ কয়েকটি অবৈধ ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজের মালিকরা হাইওয়ে পুলিশের সাথে মাসোহারার মাধ্যমে তাদের শত শত অটোরিক্সা মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ভাড়ায় পরিচালিত করে আসছে। তাছাড়া একটি দালাল সিন্ডিকেট হাইওয়ে পুলশের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যেসকল অটোরিক্সা থানায় নিয়ে যায়, সেসব অটোরিক্সা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওইসব দালালরা থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের এক ট্রাক ড্রাইভার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তার ট্রাকটি আটকিয়ে দুই হাজার টাকা নিয়ে একটি টোকেন ধরিয়ে দিয়েছে, তাছাড়া মোয়াজ্জেম নামে এক পুলিশকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা বকশিস দিতে হয়েছে। এক অটো চালক নাম প্রকাশ না করার সর্তে জানান, তাদের মালিকদের মাধ্যমে সাসোহারা দিয়েই তারা মহাসড়কে অটো চালান। অপর এক অটোচালক জানান, প্রায়ই অটো আটকিয়ে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের লোকজন তাদের কাছ থেকে ৪০০/৫০০ টাকা আদায় করে ছাড়ে। টাকা দিলে পুলিশ অথবা অন্য কেউ তাদের নিষেধ করে না।
এ বিষয়ে দূরপাল্লার এক পরিবহনের চালক বলেন, সড়কে অবৈধ যানবাহন চালকরা নিয়ম না বুঝে চালানোর কারণে বড় গাড়ির চালকদের অসুবিধা হয়। অনেক সময় তাদের ভুলের কারণে বড় দুর্ঘটনাও ঘটে।
ভালুকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো: কামরুজ্জামান বকুল বলেন, তারা শুধু পৌরএলাকায় ডিউটি করেন। হাইওয়েতে হাইওয়ে পুলিশ দেখেন। তারা প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ মামলা দিয়ে থাকেন। ৫ থেকে ১০ টনের গাড়িকে তিন হাজার ও মিনি ট্রাককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করে থাকেন। এক প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, রেকার বিলের নামে যে টাকাটা নেয়া হয়, তার একটি অফশন তাদের পুলিশি আইনে রয়েছে এবং ওই টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়ে থাকে।
ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ত্রিহুইলার যানবাহন এটা দেশব্যাপী একটি সমস্যা। গরীব মানুষরা এসব চালিয়ে থাকে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সাধারণত হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে। প্রতিদিনই প্রায় ২০ টি মামলা দেয়া হচ্ছে। মহাসড়কে বিভিন্ন ফ্যাক্টরীর সামনে সাঁড়িবদ্ধ লোডঅনলোড গাড়ি দাঁড় করে রাখার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, হাইওয়ের কোন পুলিশ যদি ত্রিহুইলার গ্যারেজের মালিকদের সাথে সম্পর্ক থাকে, তবে খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

