ঢাকাগামী লেনের ভালুকা অংশের অবস্থা খুবই বেহাল

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোরলেন সড়কের ঢাকাগামী লেনের ভালুকা অংশের অবস্থা খুবই বেহাল। সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকবাহি গাড়িসহ দূরপাল্লার যানবাহন। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন স্থানে লোক দেখানো নিন্মমানের খোয়াবালি দিয়ে মেরামত করা হলেও তা মাছবাহি গাড়ির পানি পড়ে ও গাড়ির চাকার ঘষায় সপ্তাহ যেতে না যেতে পূর্বের ন্যায় সড়কের রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড থেকে সীমান্তবর্তী মাষ্টারবাড়ি পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ।
সম্প্রতি ভালুকা বাসস্ট্যান্ড হতে খানবাড়ি পর্যন্ত মহাসড়কে ছোট বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হলে ১৮৬ মিটার সড়ক ভেঙ্গে আরসিসি ঢালাই কাজ করা হয়। ওই সময় প্রায় আরো ৫০০ মিটার সড়কের খানাখন্দগুলো ইট ও বালিমাটি দিয়ে নামমাত্র রিপেয়ারিং কাজ করা হয়েছিলো। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আগের ন্যায় খানাখন্দগুলোর ইট বালু সরে গিয়ে আরো ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই অংশটুকু যান চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে দূরপাল্লার যানবাহনসহ স্থানীয় পরিবহণ। এতে চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও ওই লেনের ভালুকা ব্রীজের দক্ষিণপাড় থেকে মাস্টারবাড়ি পর্যন্ত এবং ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড থেকে ভালুকা পৌরএলাকা পর্যন্ত সড়কের মাঝে মধ্যে ঢালাই উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে ভালুকা অংশে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যদিয়ে ফোরলেনের কাজটি করা হয়, তাছাড়া ভালুকা অংশে মহাসড়ক ঘেষে বেশ কয়েকটি স্থানে অপরিকল্পিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করে মাছের গাড়িতে ড্রামে পানি দেয়ার কারণে এবং ওইসকল গাড়ি থেকে রাস্তায় পানি পড়ায় এই কয়েক বছরেই রাস্তাটি দেবে গিয়ে এমনকি বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়ে যানচলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে ইট ও বালিমাটি দিয়ে যেভাবে গর্তগুলো ভরাট করারা নামে লোকদেখানো সংস্কার করা হয়। তা সপ্তাহ যেতে না যেতেই মাছের গাড়ির পানিতেই ভেসে গিয়ে পূণরায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পড়ে। ফরহাদ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন চালক জানান, সড়কে ছোট বড় গর্তের কারনে গাড়ি ধীরগতিতে চালাতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় বেশী লাগে। তাছাড়া একদিকে যেমন গাড়ির বিভিন্ন ধরণের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। পথচারী ফখরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের পাশদিয়ে চলা দুস্কার হয়ে পড়েছে। কারণ যাত্রীবাহি বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন ধরণের গাড়ি চলার সময় ছোট বড় গর্তে জমে থাকা পানি ছিটে গায়ে এসে পড়ে। তাছাড়া ছোট ছোট পাথর ছুটে এসে গায়ে লেগে অনেকইে আহত হয়েছেন।
ভালুকা সরকারী কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে যাওয়ার পথে মহাসড়কে অসংখ্য গর্তে জমে থাকা পানি ও ছোট পাথর গাড়ির চাকার ঘর্ষণে ছুটে এসে অনেক সময় কাপড় নষ্ট হয়ে কলেজে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর, আরামপ্রদ, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ থেকে জয়দেবপুর চেšরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ৯০২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।
ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: মোফাখখারুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ফোরলেন সড়কের ভালুকা অংশের যেসব স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, তা ইট বালু দিয়ে রিপেয়ারিংয়ে কাজ চলমান আছে। তবে বৃষ্টির জন্য থেমে থেমে কাজ করতে হচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *