প্রকাশিত হয়েছেঃ জানুয়ারি ১২, ২০২৬ সময়ঃ ৬:২৪ অপরাহ্ণ
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আউলাতলী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশীদের হামলায় এক কিশোরসহ তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত কিশোরের মা মোছাঃ শ্রাবনী আক্তার বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাড়ির সামনে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিবেশী মোঃ আইয়ুব আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা মোছাঃ শ্রাবনী আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় শ্রাবনী আক্তারের ছেলে সিনহা (১৬) এর প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক ধরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সিনহাকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। হামলার সময় সিনহার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সিনহার মা শ্রাবনী আক্তারকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গুরুতর আহত সিনহার মাথায় গভীর আঘাত লাগে এবং সেখানে সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী শ্রাবনী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘পোলাপান খেলাধুলা করতেছিল। কী নিয়ে কথা-কাটাকাটি হইছে আমি জানি না। হঠাৎ ওরা গালাগালি শুরু করে। আমার ছেলে জিজ্ঞেস করতেই ওর শার্টের কলার ধরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে ফেলে দেয়। আমার ছেলের মাথায় কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে।’
প্রতিবেশী শরীফা আক্তার বলেন, “আমি পাশের বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ কান্নাকাটি শুনে এসে দেখি শ্রাবণী মাটিতে পড়ে আছে এবং তার ছেলের মাথা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।”
তবে অভিযুক্ত পক্ষের একজন মাসুদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমাদের সঙ্গে আগে থেকেই জমিজমা নিয়ে ঝামেলা ছিল। ঘটনার দিন তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মা-ছেলে আমাদের ওপর হামলা করেছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছে, ঘটনার পর থেকে তারা প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত সুরক্ষা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন,“অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

