সুনামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাওয়া জাহানারাকে তিনমাস পর ফিরে পেলো তার পরিবার

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা বাজারের পাশ থেকে গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ভোরে পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত অজ্ঞাত (৬০) এক নারীকে থানা ও হাইওয়ে পুলিশের সহযোগীতায় উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তিকৃত নারীকে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ও ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন খাবার ও চিকিৎসা সহযোগিতা করেন। ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়মনসিংহ পিবিআইএর একটি দল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই নারীর পরিচয় সনাক্ত করেন। ওই নারীর নাম মোছাঃ জাহানারা খাতুন (৬০), তিনি সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার দক্ষিণহরিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের মেয়ে।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসির মাধ্যমে জাহানারার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে গতকাল শনিবার (২২ জুন) জাহানারার ছোট বোন দিলনাহার ও তাঁর স্বামী আব্দুল বারেক ভালুকা হাসপাতালে এসে পরিচয় সনাক্ত করেন।
দিলনাহার জানান, গত ঈদুল ফিতরের পর শরীরে চুলকানীজনিত সমস্যার কারণে অপর ছোটবোন হাছনা আরা বড় বোন জাহানারাকে নিয়ে শান্তিগঞ্জ থানা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ হাছনা আরা অজ্ঞান হয়ে পড়লে বড় বোন জাহানারা হারিয়ে যান। তারা এলাকায় বহু খোজাখোঁজি করেন। জাহানারা বাক প্রতিবন্ধী গত ১০ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভোগছেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী। মানসিক সমস্যার কারণে বহু বছর পূর্বে তার স্বামী জাহানারার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে অপর একটি বিয়ে করেন।
ভালুকা সমাজ সেবা অফিস, হাইওয়ে থানা পুলিশ জাহানারার বোন ও বোন জামাইয়ের কাছে তাঁকে তুলে দেন। দীর্ঘ  দিন পর বোনকে পেয়ে দিলনাহার খুবই খুশি। জাহানারার চিকিৎসার জন্য তারা দেশের সহৃদয়বান বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারী জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে তিনি ওই মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে পিবিআই পুলিশের মাধ্যমে ওই মহিলার নাম ঠিকানা সনাক্ত করে পরিবারের লোকদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন জানান, হাইওয়ে পুলিশ অজ্ঞাত ওই মহিলাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাকে খাবার ও চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও পুলিশের সহযোগীতায় ওই মহিলাকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীনূর খান জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ওই মহিলাকে দেখতে যান। পরে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিার্বহী অফিসারের সাথে কথা হলে তিনি অসুস্থ ওই মহিলার পরিবারের লোকদের ভালুকায় পাঠান এবং শনিবার দুপুরে তাকে তার বোনসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *