আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোরলেন সড়কের ঢাকাগামী ভালুকা অংশের ভরাডোবা ক্লাবের বাজার এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। এখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল প্রায়ই বন্ধ হওয়ার উপক্রম। মাঝে মধ্যে গর্তগুলো নিন্মমানের ইটের টুকরা ও ধুলা-মাটি দিয়ে সংস্কার করা হলেও গাড়ির চাকায় একদিনেই তা উঠে গিয়ে পূর্বের রূপ ধারণ করছে। এতে যানবাহনের ধীরগতিসহ ছোট বড় দুর্ঘটনায় নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দুরপাল্লার যাত্রীসাধারণ ও পথচারীরা।
গত রোববার ও গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভালুকার এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানচলাচল প্রায়ই বন্ধ হওয়ার পথে। মাঝেমধ্যে মাটির মতো ইটের টুকরা ও ধুলাবালি দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করা হলেও তা নিমিষেই বিলিন হয়ে আগের রূপ ধারণ করছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে ভালুকা পর্যন্ত আসলেও বড় বড় গর্তের কারণে এমনকি লোক দেখানো নিন্মমানের ইটের টুকরা ও ধুলা-মাটি দিয়ে সংস্কার কাজ চলতে থাকায় এখানে এসে থেমে যেতে হয়। তাছাড়া খানাখন্দের কারণে তাদের যানবহনের যান্ত্রিক ত্রæটি প্রায়ই দেখা দিচ্ছে বলে চালকরা জানান। এদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুঠোফোনে এই প্রতিনিধির সাথে ভালুকার ওই অংশে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার পর কাজ শুরু কথা বললেও সোমবার (১৩ মে) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে ভালুকা অংশে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যদিয়ে ফোরলেনের কাজটি করা হয়, যার কারণে এই কয়েক বছরেই রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ দেবে গিয়ে এমনকি বড় বড় খদের সৃষ্টি হয়ে যানচলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে। বেশ কয়েক বছর আগে ভালুকা বাসষ্ট্যান্ড এলাাকায় মহাসড়কের পূর্বপাশে ১৮৬ মিটার সংস্কার করা হয়।
ময়মনসিংহ সড়ক উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাখখারুল ইসলাম তুহিন জানান, ফোরলেন সড়কের ঢাকাগামী ভালুকার ভরাডোবা ক্লাবের বাজার এলাকায় ৩০০ মিটার সড়কের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাগর বিল্ডার্স কাজটির কার্যাদেশ পেয়েছেন, সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই স্থানটি আরসিসি ও সিসি ঢালাই করা হবে। কাজটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুরু করেছেন এবং তা আসছে জুনেই শেষ করা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিন্মমানের ইটের টুকরা ও ধূলোবালি দিয়ে সংস্কার কাজটি সাময়িক এবং তা তুলে ঢালাইয়েল কাজ শুরু হয়েছে। বালু শেষ হয়ে হয়ে যাওয়ায় সোমবার দুপুরে ডিভাইডার থেকে কিছু মাটি মেশানো বালি ব্যবহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর, আরামপ্রদ, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ৯০২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।